Logo
আজঃ সোমবার ১৫ জুলাই ২০২৪
শিরোনাম

দুর্যোগ প্রশমন দিবস উপলক্ষ্যে কলাপাড়ায় র‌্যালী ও আলোচনা সভা

প্রকাশিত:সোমবার ১৬ অক্টোবর ২০২৩ | হালনাগাদ:সোমবার ১৫ জুলাই ২০২৪ | ২৫৫জন দেখেছেন

Image

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি : দুর্যোগ প্রশমন দিবস উপলক্ষ্যে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় র‌্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।  রবিবার বেলা ১১ টার দিকে উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের পাখীমারা বাজারে একটি বনার্ঢ্য র‌্যালী বের করা হয়। এতে ইউনিয়ন,ওর্য়াড ও গ্রাম দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি ও সিপিপির সদস্যরা অংশগ্রহন করেন। পরে ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে দুর্যোগ বিষয়ক সচেতনতামূলক এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। বে-সরকারি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা গুড নেইবারস বাংলাদেশ এর আয়োজন করে। 

প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর দিপক কুমার দাশ’র সভাপতিত্বে সভার প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন গুড নেইবারস জাপান প্রতিনিধি ডিআরআর প্রকল্পের প্রজেক্ট ম্যানেজার ইউকি। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সিপিপির সরকারি পরিচালক আছাদ উজ্জজামান খান, ইউপি সদস্য আব্দুল হামিদ খান, হেমায়েত উদ্দিন উকিল, মো.ফজলুল হক সুমন। এছাড়া অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন গ্রাম দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মঞ্জুরুল আলম,সদস্য শাহিনুর বেগম,জুলিয়েট  বাড়ৈ প্রমুখ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন গুড নেইবারস বাংলাদেশ’র প্রোগ্রাম ম্যানেজার রাজিব বিশ্বাস। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন গ্রাম দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির ওয়ার্ড সভাপতি শুভুলন বিশ্বাস।

প্রধান অতিথি গুডনেইবারস জাপান প্রতিনিধি ডিআরআর প্রকল্পের প্রজেক্ট ম্যানেজার ইউকি  বলেন, আমাদের দেশেও দুর্যোগ আছে। প্রায়ই ভূমিকম্প হচ্ছে বিভিন্ন স্থানে। এজন্য আমরা সবাইকে সচেতন করছি। তাই আপনারাও সচেতন হবেন এবং সবাইকে এ বিষয়ে সচেতন করবেন।



আরও খবর



ঢাকা বোর্ডে এইচএসসিতে ভুল প্রশ্ন, সব পরীক্ষার্থী পাবেন ৮ নম্বর

প্রকাশিত:সোমবার ১৫ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ১৫ জুলাই ২০২৪ | জন দেখেছেন

Image

চ্যানেল 23  রিপোর্ট:


ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বোর্ডে এইচএসসির পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের ইংরেজি ভার্সনের প্রশ্নপত্রে ভুল ছিল।



 আর এই ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। প্রশ্নটি ভুল থাকায় তার সঠিক উত্তর করতে পারেননি কোনো শিক্ষার্থীই।


বিষয়টি নজরে আসার পর ইংরেজি ভার্সনে ঐ বিষয়ে পরীক্ষা দেওয়া সব শিক্ষার্থীকে ভুল প্রশ্নের নির্ধারিত নম্বর দিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড।



 ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক আবুল বাশার বলেন, শিক্ষার্থীদের বঞ্চিত হবার কোনো কারণ নেই। যেসব শিক্ষার্থী ঐ প্রশ্নটি লেখার চেষ্টা করছে তারা সবাই ৮ নম্বর পাবেন।


শিক্ষকরা জানান, গত ১১ জুলাই অনুষ্ঠিত ঢাকা বোর্ডের পদার্থবিজ্ঞান প্রথমপত্র পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে দুটি জায়গায় ভুল ও অসংগতি রয়েছে। প্রশ্নটি সংশোধন না করায় উত্তর মেলাতে না পেরে ইংরেজি ভার্সনের শিক্ষার্থীরা ৮ নম্বর কম পাওয়ার শঙ্কায় ছিল।


প্রশ্নপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বাংলা ভার্সনের ৪ নম্বর প্রশ্নের ‘উদ্দীপক’-এ বলা হয়েছে, ‘বান্দরবানের পাহাড়ি রাস্তার বাঁকে সুমন ২০০ kg ভরের একটি গাড়ি ৬০ kmh (-১) বেগে চালাচ্ছে। রাস্তার বাঁকের ব্যাসার্ধ ১৫০ m। ঐ স্থানে রাস্তাটি ৪ m চওড়া এবং ভেতরের কিনারা থেকে বাইরের কিনারা ০.৫m উঁচু।’



অন্যদিকে ইংরেজি ভার্সনে একই প্রশ্নে ‘উদ্দীপক’-এ বলা হয়েছে, Suman is driving a car of mass 200kg at a speed of 60 kmh (-1) at a bend in the hilly road of Bandarban. The radius of the road bend is 150m. At that point the road is 4m wide and 5m high from the inner edge to the outer edge.


অর্থাৎ, বাংলা ভার্সনে ‘শূন্য দশমিক ৫ মিটার উঁচু’ বলা হলেও ইংরেজি ভার্সনের প্রশ্নে সরাসরি ‘৫ মিটার উঁচু’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যা একেবারেই অসম্ভব বলে উল্লেখ করেছেন পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষকরা।


পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষকরা বলছেন, বাংলা ভার্সনের প্রশ্নটি ঠিক আছে। সেখানে ‘শূন্য দশমিক ৫ মিটার’ উল্লেখ করা হয়েছে। এটার উত্তর মিলবে। কিন্তু ইংরেজি ভার্সনে একই প্রশ্নে সরাসরি ‘৫ মিটার’ বলা হয়েছে। এটা দিয়ে উত্তর মেলানো কোনোভাবেই সম্ভব নয়।


একই প্রশ্নপত্রে সৃজনশীল প্রশ্নের ৭-এর ‘ঘ’-তে বাংলা ভার্সনের প্রশ্নে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে, ‘কোন দোলকের শক্তি বেশি’। অথচ ইংরেজি ভার্সনের প্রশ্নে লেখা হয়েছে, ‘Which pendulum is more powerful।


এ প্রশ্নটির ব্যাপারে শিক্ষকরা জানান, বাংলায় বলা হচ্ছে ‘শক্তি’। আর ইংরেজিতে বলা হচ্ছে ‘পাওয়ারফুল’, যার অর্থ দাঁড়ায় ‘ক্ষমতাশালী’। পদার্থবিজ্ঞানের ভাষায় ‘শক্তি’ ও ‘পাওয়ার’ এক জিনিস নয়। ফলে এ প্রশ্নটাও অসংগতিপূর্ণ বলছেন শিক্ষকরা।



আরও খবর



ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেন

প্রকাশিত:সোমবার ১৫ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ১৫ জুলাই ২০২৪ | জন দেখেছেন

Image



চ্যানেল 23 রিপোর্ট:


অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়ে ফাইনালে ওঠেছিল স্পেন। শিরোপা জয়ের লড়াইয়ে সেই ধারা অব্যাহত রেখে শিরোপা নিজেদের করে নিয়েছে স্প্যানিশরা।


 ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে ১২ ইউরোপ সেরার মুকুট নিজেদের করে নিলো স্পেন।



রোববার (১৪ জুলাই) অলিম্পিয়াস্টাডিয়ন বার্লিন স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় মাঠে নামে দু'দল। ম্যাচের ১২ মিনিটে বাম দিক থেকে আক্রমণে ওঠে স্পেন। ডি বক্সের ভেতর থেকে উইলিয়ামসের নেওয়া শট রুখে দেন ইংলিশ ডিফেন্ডার।


এরপরও আধিপত্য বিস্তার করে খেলতে থাকপ স্পেন। অন্যদিকে নিজেদের গুছিয়ে নিয়ে আক্রমণে যায় ইংল্যান্ড। তবে তাদের আক্রমণ আটকে যায় অ্যাটাকিং থার্ডে। শেষ পর্যন্ত গোলশূন্য সমতায় থেকে বিরতিতে যায় দু'দল।


বিরতি থেকে ফিরেই গোলের দেখা স্পেন। ম্যাচের ৪৭ মিনিটে ডেড লক ভাঙ্গেন উইলিয়ামস। তার গোলে ম্যাচে লিড নেয় স্প্যানিশরা। পিছিয়ে পড়ে গোল শোধে মরিয়া হয়ে খেলতে থাকে ইংল্যান্ড। একের পর এক আক্রমণ করতে থাকে তারা।



ম্যাচের ৭৩ মিনিটে সমতায় ফেরে ইংল্যান্ড। ডি বক্সের বাইরে থেকে জোড়ালো শটে বল জালে জড়ান বদলি নামা পালমার। তার গোলে ম্যাচে ফিরে ইংল্যান্ড। 


এরপর ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ের দিকে যাচ্ছিলো তখন আবারও গোলেট দেখা পায় স্পেন। চমৎকার ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়ান মাইকেল ওয়ারজাবাল। তার গোলে ফের লিড পায় স্পেন। 


এরপর আক্রমণ করেও গোল করতে ব্যর্থ হয় ইংল্যান্ড। শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের জয়ে শিরোপা উৎসবে মাতে স্পেন।


আরও খবর



যাত্রাবাড়িতে ইউনাইটেড বাংলাদেশ পার্টির মাসিক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত:শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ১৫ জুলাই ২০২৪ | ১২২জন দেখেছেন

Image

23 নিউজ 

নিজস্ব প্রতিবেদক 

রাজধানীর যাত্রাবাড়িতে ইউনাইটেড বাংলাদেশ পার্টির মাসিক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রুবার বিকেলে দলটির থানা কার্যালয়ে কেন্দ্রিয় কমিটির সদস্য মুন্সী আল ইমরানের সভাপতিত্বে জনাকীর্ণ এ আলোচনা সভাপি অনুষ্ঠিত হয়।

ব্যতিক্রমি চিন্তা চরতনার ধারক উল্লেখিত সংগঠনটির  অগ্রগতি,কার্যক্রম, পূর্বের সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ণের পর্যালোচনা,করনীয়,সামনের দিনগুলোর করনীয় ও সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রাণবন্ত আলোচনা করা  হয় মুক্ত মনে। 

পার্টির যুগ্ম আহবায়ক জনাব মোঃ নাসিম ইকবাল তার বক্তব্যে বলেন, দলের মধ্যে সততা, সচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও গণতন্ত্র না থাকলে ঐ দল দিয়ে দেশের জন্য ভালো কিছু করা সম্ভব নয়। সুতরাং আগে আমাদের ইউবিপিতে সততা, সচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। 

সভাপতির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য জনাব মুন্সি আল ইমরান বলেন, জাতির স্বার্থে, দেশের স্বার্থে আমাদের কথা বলতে হবে, প্রতিবাদ করতে হবে।

 কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব মোঃ শাহাবুদ্দিন তার বক্তব্যে বলেন     ইউবিপি এর যেভাবে সাড়া পাচ্ছি খুব অল্প সময়ের মধ্যে সারাদেশে ইউনাইটেড বাংলাদেশ পার্টির গ্রহনযোগ্যতা বৃদ্ধি পাবে বলে আমি আশা করি।

রাজনীতি পথযাত্রায় দলটির গঠনতান্ত্রিক কার্যক্রম সারা দেশে কিভাবে বিস্তৃত করে জনমানুষের আস্থার ঠিকানায় দ্রুত পৌঁছানো যায় এবং দলের মৌলিক দিকনির্দেশনা মানুষের মাঝে কিভাবে ছড়িয়ে দিয়ে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানো যায় সে ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা ও এ সংক্রান্ত গঠনমূলক প্রস্তবণাসমুহ নিয়ে বিশদ কর্মসূচি গ্রহন করা হয়।

 উক্ত সভায় আরো বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ফরিদ আহমেদ, জাহিরুল ইসলাম, আব্দুস সালাম, হাফিজুর রহমান, মির্জাগঞ্জ উপজেলার সভাপতি আতিক হাসান এবং বেতাগী থানার সদস্য সচিব জাহিদুল ইসলাম প্রমুখ।


আরও খবর



মধ্যরাতে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ছিল স্লোগানে উত্তাল, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

প্রকাশিত:সোমবার ১৫ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ১৫ জুলাই ২০২৪ | জন দেখেছেন

Image

সদরুল আইনঃ

চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। 



রবিবার দিবাগত রাত পৌনে ১১টার দিকে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে সাড়া দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা হল ছেড়ে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে রাস্তায় নেমে আসেন। হল ছেড়ে বেরিয়ে ছাত্রীরাও 'আমি কে তুমি কে? রাজাকার, রাজাকার', 'চাইলাম অধিকার, হয়ে গেলাম রাজাকার' স্লোগানে দিতে থাকেন। 



কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের প্ল্যাটফর্ম 'বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন'-এর ডাকে একে একে দেশের অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেও এমন বিক্ষোভ শুরু হয় বলে জানা গেছে।


বিক্ষোভে বেশিরভাগ শিক্ষার্থী বলেছেন, অন্যায্য কোটাব্যবস্থার বিরুদ্ধে কথা বলায় তাদের অপমান ও তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের অপমান করার অধিকার কারও নেই। তারা এই অবমাননার প্রতিবাদ জানাতে রাস্তায় নেমেছেন।



ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

এর আগে রবিবার সন্ধ্যায় গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রসঙ্গে বলেন,  'মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে এত ক্ষোভ কেন? মুক্তিযোদ্ধাদের নাতি-পুতিরা না পেলে, তাহলে কি রাজাকারের নাতি-পুতিরা পাবে? আমার প্রশ্ন দেশবাসীর কাছে। রাজাকারের নাতি-পুতিরা চাকরি পাবে, মুক্তিযোদ্ধারা পাবে না? নিজের জীবন বাজি রেখে বিজয় এনে দিয়েছিল বলে সবাই উচ্চপদে আসীন। না হলে পাকিস্তানিদের বুটের লাথি খেয়ে চলতে হতো।'



প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যে কোটাব্যবস্থা সংস্কার চেয়ে যারা আন্দোলন করছেন তাদের অবমাননা করা হয়েছে দাবি করে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করছেন। মধ্যরাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিক্ষোভ চলাকালেই অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ও উত্তাল হয়ে ওঠে।



জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

ইত্তেফাকের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা মাহমুদুর রহমান নাজিদ জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের প্রতিবাদে রবিবার রাত ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে বিক্ষোভ মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা। 



মিছিলটি পরে শাখারিবাজার হয়ে তাতিবাজারে যায়। ছাত্রী হলে তালা দিয়ে মেয়েদের আন্দোলনে যেতে নিরুৎসাহিত করেছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে ছাত্রীরাও গেটের তালা ভেঙে বিক্ষোভ মিছিলে অংশগ্রহণ করেন।


রোকসানা তৃষ্ণা নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, কোটা সংস্কারের আন্দোলনকারীদের নিয়ে বিরূপ মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানাই। দেশের অভিভাবকের কাছে এমন বক্তব্য কখনোই আশা করা যায় না।


জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ঃ


 ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া 'তুমি কে, আমি কে— রাজাকার, রাজাকার' স্লোগানে উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজেদের হলে এমন স্লোগান দেয়ার পরিকল্পনা করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা৷ এর প্রেক্ষিতে ৪৯তম ব্যাচের ম্যাসেঞ্জার গ্রুপে মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের মো. সাঈফ খান মেসেজ দেন। পরে হলের ১২৪ নম্বর কক্ষ থেকে স্লোগান পুরো হলে ছড়িয়ে পড়ে৷ 



এ সময় শিক্ষার্থীরা সমস্বরে স্লোগান দিতে শুরু করলে পলিটিকাল ব্লক থেকে ৪৮তম ব্যাচের সিনিয়ররা এসে তাদের সবাইকে ডেকে হলের ডাইনিংয়ে নিয়ে যান। 


এরপর শিক্ষার্থীদের কাছে 'রাজাকার' স্লোগান দেওয়ার কারণ জিজ্ঞেস করা হয়। এ সময় 'শিবির সন্দেহে' শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন তল্লাশি করা হয়৷ এরই মধ্যে হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক নাজমুল হাসান তালুকদারকে ডেকে নিয়ে আসেন ছাত্রলীগ নেতারা৷



 পরে হল প্রাধ্যক্ষের উপস্থিতিতে ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের ক্ষমা চাইতে বলা হয়। ক্ষমা চাইলে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো ক্যাম্পাস আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।


পরে রাত ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা এলাকা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন 'বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন' ব্যানারে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি সড়ক ঘুরে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের সামনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা।



শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ঃ


 রাত সোয়া ১২টার দিকে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন হল থেকে বের হয়ে আসেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা স্লোগান দিতে থাকেন। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বলেন, একটি দেশের প্রধানমন্ত্রী কখনো সে দেশের ছাত্রজনতাকে রাজাকারের বাচ্চা বলতে পারেন না। তার এমন উক্তির প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা এতো রাতেও রাস্তায় নেমেছেন।


অন্যদিকে ছাত্রলীগের একদল নেতাকর্মী বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকেন্ড গেটে জড়ো হতে থাকেন এবং 'বঙ্গবন্ধুর বাংলায় রাজাকারের ঠাই নাই', 'একটা একটা রাজাকার ধর, ধরে ধরে জবাই কর', ধরি ধরি ধরি না, ধরলে মোরা ছাড়ি না' স্লোগান দিতে থাকেন। এসময় তারা লুৎফর হলের ভেতরে ঢুকে স্লোগান দিলে হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা 'ভুয়া', 'ভুয়া' বলতে থাকেন।


শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের প্রেক্ষিতে ছাত্র পরামর্শক  অধ্যাপক ড. ফরহাদ হোসেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে এধরনের বিশৃঙ্খলা হলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ঃ



এদিকে কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা মোস্তাফিজুর রহমান রাকিব জানান, মধ্যরাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া মোড়ে সমবেত হয়ে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিব ম্যুরালের পাদদেশে এসে মিলিত হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল এবং পাশ্ববর্তী মেস থেকে শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন।


এসময় শিক্ষার্থীরা বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন আমাদের অধিকারের জন্য লড়াই করেছেন তখন পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী তাকে ভারতের দালাল আখ্যা দিয়েছে। কিন্তু তিনি সেদিকে কর্ণপাত না করে অধিকার আদায়ের সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন। আমরা আজ শান্তিপূর্ণ ভাবে স্মারকলিপি জমা দিয়েছি। 



কিন্তু এই পরিস্থিতিতে সরকার প্রধানের বক্তব্য আমাদের হতাশ করেছে। আমাদের দাবিগুলো আমলে নিয়ে পড়ার টেবিলে ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করছি।



গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ঃ


, রবিবার রাত ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা দিবস হল থেকে আবাসিক শিক্ষার্থীরা প্রথমে বিক্ষোভ করেন। পরে সাড়ে ১১টার দিকে লিপুস ক্যান্টিন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব হল ঘুরে, বিভিন্ন স্থান প্রদক্ষিণ করে মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা। পরে প্রধান ফটকের সামনে জড় হয়ে একই স্লোগান দিতে থাকেন তারা। যা সোয়া ১২টা পর্যন্ত চলে।



কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ঃ



রাত ১১টার দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, কাজী নজরুল ইসলাম হল,শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হল এবং শেখ হাসিনা হলের  আবাসিক শিক্ষার্থীদের দফায় দফায় স্লোগান দিতে দেখা যায়। পরে সাড়ে ১১টার দিকে  বঙ্গবন্ধু ও নজরুল হল থেকে শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে জড়ো হোন।


মিছিলে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা বলেন, প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য প্রদানকালে মুক্তিযোদ্ধা বাদে সবাইকে রাজাকারের সন্তান ও নাতি বলেছেন। যেটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।


গত ১ জুলাই থেকে টানা আন্দোলনে আছেন কোটাব্যবস্থা সংস্কারের দাবি জানানো শিক্ষার্থীরা। ২০১৮ সালের কোটা বাতিলের পরিপত্র পুনর্বহালসহ চার দফা দাবিকে সামনে রেখে আন্দোলন শুরু হয়েছিল। কিন্তু গত ৭ জুলাই থেকে তারা এক দফা দাবির কথা বলছেন। 



দাবিটি হচ্ছে সরকারি চাকরিতে সব গ্রেডে অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাতিল করে সংবিধানে উল্লিখিত অনগ্রসর গোষ্ঠীর জন্য কোটাকে ন্যূনতম মাত্রায় এনে সংসদে আইন পাস করা। সব গ্রেডে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ কোটা রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন তাঁরা। 



আজ বঙ্গভবন অভিমুখে গণপদযাত্রা করে আন্দোলনকারীদের মধ্য থেকে ১২ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতি বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে।


আরও খবর



রাত ২ টায় হলে ফিরলেন ঢাবি শিক্ষার্থীরা, মধ্য রাতে উত্তাল অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশিত:সোমবার ১৫ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ১৫ জুলাই ২০২৪ | জন দেখেছেন

Image

চ্যানেল 23 ডেস্কঃ



বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি শেষে হলে হলে ফিরেছেন কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীরা। রোববার (১৪ জুলাই) রাত ২টার দিকে তারা হলে ফিরে যান।



এর আগে কোটা সংস্কারের দাবিতে মধ্যরাতে উত্তাল হয়ে উঠে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি)। রোববার (১৪ জুলাই) রাত পৌনে ১১টার দিকে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে সাড়া দিয়ে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে রাস্তায় নেমে আসেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলসহ প্রত্যেকটি হলের শিক্ষার্থীরা এই বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন।



জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হল, শামসুন্নাহার হল, কবি জসিম উদ্দিন হল, বঙ্গবন্ধু হল, জিয়াউর রহমান হলসহ বিজ্ঞান অনুষদের হলগুলোর কয়েক হাজার শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে বের হয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন।


এদিকে, মিছিলে যোগ দেওয়া ঠেকাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহাম্মদ মুহসীন হল, মাস্টারদা সূর্যসেন হল, বিজয় একাত্তর হল, শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল ও এফ রহমান হলের শিক্ষার্থীদেরকে আটকে রাখার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।



 কিন্তু অন্যান্য হলের শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে এসে এই হলগুলোর মূল ফটকের তালা ভেঙে আগ্রহী শিক্ষার্থীদেরকে উদ্ধার করে মিছিলে যুক্ত করেন।



বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া এক শিক্ষার্থী গণমাধ্যমকে বলেন, সূর্যসেন হল, মুহসীন হল, একাত্তর হল, এ এফ রহমান হল ও সার্জেন্ট জহুরুল হক হলে আটকে রাখা শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করা হয়েছে এবং মিছিলে যুক্ত করা হয়। জহুরুল হক হলের টিভি রুমে শিক্ষার্থীদের আটকে রাখা হয়েছিল।


বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সহ-সমন্বয়ক রিফাত রশিদ বলেন, বিজয় একাত্তর হলগেট বন্ধ রাখা হয়েছিল। সেখানে আটকে রাখা শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করতে গেলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আসিফ আহত হন।


আন্দোলনে অংশ নেওয়া আরেক শিক্ষার্থী বলেন, দেশের অধিকাংশ মানুষ বীর মুক্তিযোদ্ধা কোটাসহ কোনো কোটা চায় না। দেশের মানুষ চায় মেধার মাধ্যমে সরকারি চাকরিতে নিয়োগ হোক।


এর আগে রাত পৌনে ১১টার দিকে ছাত্রীরা হল থেকে এবং আশেপাশে মেসে থাকা  শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে জড়ো হন।


রাত ১১টার দিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শামসুজ্জোহা চত্বরে একত্রিত হয়ে বিভিন্ন হল প্রদক্ষিণ করেন আন্দোলনকারীরা। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করেন তারা।


এ ছাড়া চবি, কুবি, বেরোবি, খুবিসহ আরও বেশ কয়েকটি ক্যাম্পাস মধ্যরাতে উত্তাল হয়ে উঠে।



আরও খবর