Logo
আজঃ সোমবার ১৫ জুলাই ২০২৪
শিরোনাম

সপ্তাহের ব্যবধানে টাকার মান কমলো ৭ টাকা

প্রকাশিত:রবিবার ১২ নভেম্বর ২০২৩ | হালনাগাদ:সোমবার ১৫ জুলাই ২০২৪ | ১৫২জন দেখেছেন

Image

দেশে ডলারের তীব্র সংকট সৃষ্টি হয়েছে। লাগামহীনভাবে বাড়ছে দাম। বিপরীতে কমছে টাকার মান। নানা পদক্ষেপ নিয়েও দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছে না কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ফলে খোলা বাজারে খুচরা ডলারের দাম গিয়ে ঠেকেছে ১২৬ থেকে ১২৭ টাকায়।

চিকিৎসা, শিক্ষা বা ভ্রমণের জন্য যারা বিদেশে যাচ্ছেন তাদের নগদ প্রতি ডলার কিনতে খরচ করতে হচ্ছে ১২৭ টাকা পর্যন্ত। এক সপ্তাহ আগেও খোলা বাজারে ডলারের দাম ছিল ১২০ টাকা। আর বছরের শুরুতে দাম ছিল ১১০ টাকা। সেই হিসাবে প্রতি ডলারের বিপরীতে সপ্তাহে টাকার মান কমেছে ৭ টাকা, আর চলতি বছরে কমেছে ১৭ টাকা।

খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যাংকগুলো ডলার সংকটের কারণে আমদানির দেনা শোধ করতে পারছে না। তাই সংকট মোকাবিলায় অনেক ব্যাংক বাড়তি দামে প্রবাসী আয় কিনছে। এ সুযোগে বিদেশি এক্সচেঞ্জ হাউজগুলো হঠাৎ করে ১২ থেকে ১৪ টাকা বাড়িয়ে দিয়েছে রেমিট্যান্সের ডলারের দাম। ফলে অনেক ব্যাংক বাধ্য হয়ে ১২৩ থেকে ১২৪ টাকায় প্রবাসী আয় কিনেছে। এর প্রভাবে খোলা বাজারে ডলারের দামও হু হু করে বেড়েছে।

মতিঝিল দিলকুশার এলাকায় খুচরা ডলার কেনা-বেচা করেন আব্দুর রহমান। তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, আজকেও বাজার খুব চড়া। কেউ ডলার বিক্রি করতে আসলে ১২৫ থেকে ১২৫ টাকা ৫০ পয়সা দিচ্ছি। আর কেউ কিনতে আসলে ১২৬ টাকা থেকে ১২৭ টাকায় বিক্রি করছি। বৃহস্পতিবারও ১২৬ টাকা ছিল।

কেন হঠাৎ দাম বাড়ল? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চাহিদা বাড়লে দামও বাড়ে। এখন ব্যাংক ডলার কিনছে ১২৪ থেকে ১২৫ টাকা তাহলে খোলা বাজারে তো ১২৬-১২৭ টাকা হবেই।

অফিসের কাজে দুবাই যাবেন আরমান আরিফ। নগদ ডলার কেনার জন্য বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ খবর নিচ্ছেন। তিনি বলেন, আজকে ডলার কেনার জন্য কয়েকটি ব্যাংকে খোঁজ নিলাম। কোনো ব্যাংক ডলার বিক্রি করতে চায়নি। পরে কয়েকটি মানি চেঞ্জারে ফোন দিলাম আন-অফিসিয়ালি রেট ১২৬ টাকা ৫০ পয়সা চেয়েছে। এখনও ডলার কিনতে পারিনি। দেখি দাম কমে কি না। সামনের সপ্তাহে ফ্লাইট, এর মধ্যে দাম না কমলেও কিনতে হবে।

ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) চেয়ারম্যান ও ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সেলিম আর এফ হোসেন বলেন, ডলারের বাজার খুবই কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। স্থিতিশীল করার জন্য আমরা সব স্টেকহোল্ডার একসঙ্গে কাজ করছি। কিছু ব্যাংক বেশি সমস্যায় আছে, তাদের এ রেট মানতে সমস্যা হচ্ছে। এজন্য সবার সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। যেন বাজার অস্থিতিশীল না হয়।

তিনি বলেন, ডলারের ঊর্ধ্বমুখী দাম নিয়ন্ত্রণে রেমিট্যান্সের সর্বোচ্চ দাম নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে প্রবাসী আয়ে ব্যাংকের নিজস্ব প্রণোদনাসহ ডলারের দর কোনোভাবেই ১১৬ টাকার বেশি দর দেওয়া যাবে না। তবে আমদানিকারকদের কাছে ব্যাংকগুলোকে ১১১ টাকায় বিক্রি করতে হবে; এর বেশি নেওয়া যাবে না। কেউ যদি এটা অমান্য করে তাহলে নিয়ন্ত্রক সংস্থা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।

ডলারের বাজার প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. মেজবাউল হক বলেন, গত ৬ মাস এমন সমস্যা ছিল না; ডলারের দাম ১২৪ টাকা কখনো হয়নি। বাড়তি প্রণোদনা উন্মুক্ত করায় ডলারের বাজারে বিশৃঙ্খলা হয়েছে। এখন বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে তারা (এবিবি ও বাফেদা) একটা রেট নির্ধারণ করেছে। তাদের নির্ধারিত রেট বাস্তবায়নে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাহায্য চেয়েছেন। ডলার বাজার নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তা করা হবে।

২০ বিলিয়নে রিজার্ভ
দেশের বাজারে বৈদেশিক মুদ্রার সংকট কাটাতে রিজার্ভ থেকে নিয়মিত ডলার বিক্রি করে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। চলতি অর্থবছরে এরই মধ্যে সাড়ে ৪ বিলিয়ন ডলারের মতো বিক্রি করা হয়েছে। ফলে ধারাবাহিকভাবে কমছে অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর এ সূচকটি ধারাবাহিকতা কমছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এখন গ্রস রিজার্ভ ২৬ দশমিক ৫১ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এর শর্ত অনুযায়ী বিপিএম-৬ ম্যাথোডের ভিত্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবের সঙ্গে ৫.৭২ বিলিয়ন ডলারের পার্থক্য রয়েছে। অর্থাৎ বিপিএম-৬ ম্যানুয়াল অনুযায়ী, গ্রস রিজার্ভ ২০ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন। এর বাইরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিট বা প্রকৃত রিজার্ভের আরেকটি হিসাব রয়েছে, যা শুধু আইএমএফকে দেওয়া হয়। প্রকাশ করা হয় না।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সেই হিসাবে দেশের প্রকৃত রিজার্ভ এখন ১৬ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি। বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে এখন যে পরিমাণ প্রকৃত রিজার্ভ আছে, তা দিয়ে শুধু তিন মাসের আমদানি খরচ মেটানো যাবে। সাধারণত একটি দেশের ন্যূনতম ৩ মাসের আমদানি খরচের সমান রিজার্ভ থাকতে হয়। সেই মানদণ্ডে বাংলাদেশ এখন শেষ প্রান্তে রয়েছে। একটি দেশের অর্থনীতির অন্যতম সূচক হল বৈদেশিক মুদ্রার মজুত বা রিজার্ভ।


আরও খবর



ঢাকা বোর্ডে এইচএসসিতে ভুল প্রশ্ন, সব পরীক্ষার্থী পাবেন ৮ নম্বর

প্রকাশিত:সোমবার ১৫ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ১৫ জুলাই ২০২৪ | জন দেখেছেন

Image

চ্যানেল 23  রিপোর্ট:


ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বোর্ডে এইচএসসির পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের ইংরেজি ভার্সনের প্রশ্নপত্রে ভুল ছিল।



 আর এই ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। প্রশ্নটি ভুল থাকায় তার সঠিক উত্তর করতে পারেননি কোনো শিক্ষার্থীই।


বিষয়টি নজরে আসার পর ইংরেজি ভার্সনে ঐ বিষয়ে পরীক্ষা দেওয়া সব শিক্ষার্থীকে ভুল প্রশ্নের নির্ধারিত নম্বর দিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড।



 ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক আবুল বাশার বলেন, শিক্ষার্থীদের বঞ্চিত হবার কোনো কারণ নেই। যেসব শিক্ষার্থী ঐ প্রশ্নটি লেখার চেষ্টা করছে তারা সবাই ৮ নম্বর পাবেন।


শিক্ষকরা জানান, গত ১১ জুলাই অনুষ্ঠিত ঢাকা বোর্ডের পদার্থবিজ্ঞান প্রথমপত্র পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে দুটি জায়গায় ভুল ও অসংগতি রয়েছে। প্রশ্নটি সংশোধন না করায় উত্তর মেলাতে না পেরে ইংরেজি ভার্সনের শিক্ষার্থীরা ৮ নম্বর কম পাওয়ার শঙ্কায় ছিল।


প্রশ্নপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বাংলা ভার্সনের ৪ নম্বর প্রশ্নের ‘উদ্দীপক’-এ বলা হয়েছে, ‘বান্দরবানের পাহাড়ি রাস্তার বাঁকে সুমন ২০০ kg ভরের একটি গাড়ি ৬০ kmh (-১) বেগে চালাচ্ছে। রাস্তার বাঁকের ব্যাসার্ধ ১৫০ m। ঐ স্থানে রাস্তাটি ৪ m চওড়া এবং ভেতরের কিনারা থেকে বাইরের কিনারা ০.৫m উঁচু।’



অন্যদিকে ইংরেজি ভার্সনে একই প্রশ্নে ‘উদ্দীপক’-এ বলা হয়েছে, Suman is driving a car of mass 200kg at a speed of 60 kmh (-1) at a bend in the hilly road of Bandarban. The radius of the road bend is 150m. At that point the road is 4m wide and 5m high from the inner edge to the outer edge.


অর্থাৎ, বাংলা ভার্সনে ‘শূন্য দশমিক ৫ মিটার উঁচু’ বলা হলেও ইংরেজি ভার্সনের প্রশ্নে সরাসরি ‘৫ মিটার উঁচু’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যা একেবারেই অসম্ভব বলে উল্লেখ করেছেন পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষকরা।


পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষকরা বলছেন, বাংলা ভার্সনের প্রশ্নটি ঠিক আছে। সেখানে ‘শূন্য দশমিক ৫ মিটার’ উল্লেখ করা হয়েছে। এটার উত্তর মিলবে। কিন্তু ইংরেজি ভার্সনে একই প্রশ্নে সরাসরি ‘৫ মিটার’ বলা হয়েছে। এটা দিয়ে উত্তর মেলানো কোনোভাবেই সম্ভব নয়।


একই প্রশ্নপত্রে সৃজনশীল প্রশ্নের ৭-এর ‘ঘ’-তে বাংলা ভার্সনের প্রশ্নে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে, ‘কোন দোলকের শক্তি বেশি’। অথচ ইংরেজি ভার্সনের প্রশ্নে লেখা হয়েছে, ‘Which pendulum is more powerful।


এ প্রশ্নটির ব্যাপারে শিক্ষকরা জানান, বাংলায় বলা হচ্ছে ‘শক্তি’। আর ইংরেজিতে বলা হচ্ছে ‘পাওয়ারফুল’, যার অর্থ দাঁড়ায় ‘ক্ষমতাশালী’। পদার্থবিজ্ঞানের ভাষায় ‘শক্তি’ ও ‘পাওয়ার’ এক জিনিস নয়। ফলে এ প্রশ্নটাও অসংগতিপূর্ণ বলছেন শিক্ষকরা।



আরও খবর



মধ্যরাতে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ছিল স্লোগানে উত্তাল, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

প্রকাশিত:সোমবার ১৫ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ১৫ জুলাই ২০২৪ | জন দেখেছেন

Image

সদরুল আইনঃ

চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। 



রবিবার দিবাগত রাত পৌনে ১১টার দিকে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে সাড়া দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা হল ছেড়ে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে রাস্তায় নেমে আসেন। হল ছেড়ে বেরিয়ে ছাত্রীরাও 'আমি কে তুমি কে? রাজাকার, রাজাকার', 'চাইলাম অধিকার, হয়ে গেলাম রাজাকার' স্লোগানে দিতে থাকেন। 



কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের প্ল্যাটফর্ম 'বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন'-এর ডাকে একে একে দেশের অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেও এমন বিক্ষোভ শুরু হয় বলে জানা গেছে।


বিক্ষোভে বেশিরভাগ শিক্ষার্থী বলেছেন, অন্যায্য কোটাব্যবস্থার বিরুদ্ধে কথা বলায় তাদের অপমান ও তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের অপমান করার অধিকার কারও নেই। তারা এই অবমাননার প্রতিবাদ জানাতে রাস্তায় নেমেছেন।



ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

এর আগে রবিবার সন্ধ্যায় গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রসঙ্গে বলেন,  'মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে এত ক্ষোভ কেন? মুক্তিযোদ্ধাদের নাতি-পুতিরা না পেলে, তাহলে কি রাজাকারের নাতি-পুতিরা পাবে? আমার প্রশ্ন দেশবাসীর কাছে। রাজাকারের নাতি-পুতিরা চাকরি পাবে, মুক্তিযোদ্ধারা পাবে না? নিজের জীবন বাজি রেখে বিজয় এনে দিয়েছিল বলে সবাই উচ্চপদে আসীন। না হলে পাকিস্তানিদের বুটের লাথি খেয়ে চলতে হতো।'



প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যে কোটাব্যবস্থা সংস্কার চেয়ে যারা আন্দোলন করছেন তাদের অবমাননা করা হয়েছে দাবি করে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করছেন। মধ্যরাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিক্ষোভ চলাকালেই অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ও উত্তাল হয়ে ওঠে।



জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

ইত্তেফাকের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা মাহমুদুর রহমান নাজিদ জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের প্রতিবাদে রবিবার রাত ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে বিক্ষোভ মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা। 



মিছিলটি পরে শাখারিবাজার হয়ে তাতিবাজারে যায়। ছাত্রী হলে তালা দিয়ে মেয়েদের আন্দোলনে যেতে নিরুৎসাহিত করেছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে ছাত্রীরাও গেটের তালা ভেঙে বিক্ষোভ মিছিলে অংশগ্রহণ করেন।


রোকসানা তৃষ্ণা নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, কোটা সংস্কারের আন্দোলনকারীদের নিয়ে বিরূপ মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানাই। দেশের অভিভাবকের কাছে এমন বক্তব্য কখনোই আশা করা যায় না।


জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ঃ


 ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া 'তুমি কে, আমি কে— রাজাকার, রাজাকার' স্লোগানে উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজেদের হলে এমন স্লোগান দেয়ার পরিকল্পনা করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা৷ এর প্রেক্ষিতে ৪৯তম ব্যাচের ম্যাসেঞ্জার গ্রুপে মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের মো. সাঈফ খান মেসেজ দেন। পরে হলের ১২৪ নম্বর কক্ষ থেকে স্লোগান পুরো হলে ছড়িয়ে পড়ে৷ 



এ সময় শিক্ষার্থীরা সমস্বরে স্লোগান দিতে শুরু করলে পলিটিকাল ব্লক থেকে ৪৮তম ব্যাচের সিনিয়ররা এসে তাদের সবাইকে ডেকে হলের ডাইনিংয়ে নিয়ে যান। 


এরপর শিক্ষার্থীদের কাছে 'রাজাকার' স্লোগান দেওয়ার কারণ জিজ্ঞেস করা হয়। এ সময় 'শিবির সন্দেহে' শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন তল্লাশি করা হয়৷ এরই মধ্যে হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক নাজমুল হাসান তালুকদারকে ডেকে নিয়ে আসেন ছাত্রলীগ নেতারা৷



 পরে হল প্রাধ্যক্ষের উপস্থিতিতে ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের ক্ষমা চাইতে বলা হয়। ক্ষমা চাইলে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো ক্যাম্পাস আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।


পরে রাত ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা এলাকা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন 'বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন' ব্যানারে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি সড়ক ঘুরে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের সামনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা।



শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ঃ


 রাত সোয়া ১২টার দিকে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন হল থেকে বের হয়ে আসেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা স্লোগান দিতে থাকেন। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বলেন, একটি দেশের প্রধানমন্ত্রী কখনো সে দেশের ছাত্রজনতাকে রাজাকারের বাচ্চা বলতে পারেন না। তার এমন উক্তির প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা এতো রাতেও রাস্তায় নেমেছেন।


অন্যদিকে ছাত্রলীগের একদল নেতাকর্মী বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকেন্ড গেটে জড়ো হতে থাকেন এবং 'বঙ্গবন্ধুর বাংলায় রাজাকারের ঠাই নাই', 'একটা একটা রাজাকার ধর, ধরে ধরে জবাই কর', ধরি ধরি ধরি না, ধরলে মোরা ছাড়ি না' স্লোগান দিতে থাকেন। এসময় তারা লুৎফর হলের ভেতরে ঢুকে স্লোগান দিলে হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা 'ভুয়া', 'ভুয়া' বলতে থাকেন।


শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের প্রেক্ষিতে ছাত্র পরামর্শক  অধ্যাপক ড. ফরহাদ হোসেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে এধরনের বিশৃঙ্খলা হলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ঃ



এদিকে কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা মোস্তাফিজুর রহমান রাকিব জানান, মধ্যরাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া মোড়ে সমবেত হয়ে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিব ম্যুরালের পাদদেশে এসে মিলিত হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল এবং পাশ্ববর্তী মেস থেকে শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন।


এসময় শিক্ষার্থীরা বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন আমাদের অধিকারের জন্য লড়াই করেছেন তখন পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী তাকে ভারতের দালাল আখ্যা দিয়েছে। কিন্তু তিনি সেদিকে কর্ণপাত না করে অধিকার আদায়ের সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন। আমরা আজ শান্তিপূর্ণ ভাবে স্মারকলিপি জমা দিয়েছি। 



কিন্তু এই পরিস্থিতিতে সরকার প্রধানের বক্তব্য আমাদের হতাশ করেছে। আমাদের দাবিগুলো আমলে নিয়ে পড়ার টেবিলে ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করছি।



গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ঃ


, রবিবার রাত ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা দিবস হল থেকে আবাসিক শিক্ষার্থীরা প্রথমে বিক্ষোভ করেন। পরে সাড়ে ১১টার দিকে লিপুস ক্যান্টিন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব হল ঘুরে, বিভিন্ন স্থান প্রদক্ষিণ করে মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা। পরে প্রধান ফটকের সামনে জড় হয়ে একই স্লোগান দিতে থাকেন তারা। যা সোয়া ১২টা পর্যন্ত চলে।



কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ঃ



রাত ১১টার দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, কাজী নজরুল ইসলাম হল,শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হল এবং শেখ হাসিনা হলের  আবাসিক শিক্ষার্থীদের দফায় দফায় স্লোগান দিতে দেখা যায়। পরে সাড়ে ১১টার দিকে  বঙ্গবন্ধু ও নজরুল হল থেকে শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে জড়ো হোন।


মিছিলে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা বলেন, প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য প্রদানকালে মুক্তিযোদ্ধা বাদে সবাইকে রাজাকারের সন্তান ও নাতি বলেছেন। যেটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।


গত ১ জুলাই থেকে টানা আন্দোলনে আছেন কোটাব্যবস্থা সংস্কারের দাবি জানানো শিক্ষার্থীরা। ২০১৮ সালের কোটা বাতিলের পরিপত্র পুনর্বহালসহ চার দফা দাবিকে সামনে রেখে আন্দোলন শুরু হয়েছিল। কিন্তু গত ৭ জুলাই থেকে তারা এক দফা দাবির কথা বলছেন। 



দাবিটি হচ্ছে সরকারি চাকরিতে সব গ্রেডে অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাতিল করে সংবিধানে উল্লিখিত অনগ্রসর গোষ্ঠীর জন্য কোটাকে ন্যূনতম মাত্রায় এনে সংসদে আইন পাস করা। সব গ্রেডে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ কোটা রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন তাঁরা। 



আজ বঙ্গভবন অভিমুখে গণপদযাত্রা করে আন্দোলনকারীদের মধ্য থেকে ১২ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতি বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে।


আরও খবর



সন্দ্বীপে মাদক বিরোধী পথসভা ও লিফলেট বিতরন।

প্রকাশিত:সোমবার ২৪ জুন 20২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ১৫ জুলাই ২০২৪ | ২৩২জন দেখেছেন

Image

সন্দ্বীপ প্রতিনিধি 

চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে ২৪ জুন (সোমবার) মাদকের ভয়াবহতা নিয়ে পথসভা ও লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে।  স্বাধীন বাংলা  মাদক বিরোধী কল্যাণ সোসাইটি ও সন্দ্বীপ অধিকার আন্দোলন   যৌথ উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

 উপজেলা পরিষদের ভিতরে পথসভা শেষে কমপ্লেক্স এলাকায় ব্যবসায়ী ও সর্বস্তরের  জনগণের মাঝে লিফলেট বিতরণ করা হয়।  লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি উদ্ভোধন করেন সন্দ্বীপ উপজেলার সহকারী ভূমি কমিশনার তাসফিক সিপাত উল্যা

পথসভায় বক্তব্য রাখেন সন্দ্বীপ অধিকার আন্দোলন এর সভাপতি  মোঃ হাসানুজ্জামান সন্দ্বীপি, স্বাধীন বাংলা মাদক বিরোধী কল্যাণ সোসাইটির সন্দ্বীপ কমিটির  সভাপতি মোঃ রুবেল, সাধারণ সম্পাদক মোঃ নজরুল ইসলাম, মোহাম্মদ সাকিল খান প্রমুখ।

এ সময় সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে উপস্তিত ছিলেন মোঃ জাফর ইসলাম, এমদাদ হোসেন, জয়দেব কাহার,মেহেদী হাসান,আরমান হোসেন তাইমুল হোসেন, আব্দুর রহমান, সাব্বির মাহমুদ, মোঃ রাফি, আব্দুল করিম সহ  স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ , 

বক্তব্যে নেতৃবৃন্দ সন্দ্বীপ উপজেলাকে মাদকমুক্ত করতে সকলের সহযোগিতা কামনা করে বলেন ,সন্দ্বীপের প্রতিটি  ইউনিয়ন পাড়া মহল্লাও স্কুল -কলেজে  মাদক বিরোধী জন সচেতনতামূলক লিফলেট ও অন্যান্য কর্মসূচি চলমান থাকবে


আরও খবর



জবি শিক্ষার্থীদের গণপদযাত্রা শুরু

প্রকাশিত:রবিবার ১৪ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ১৫ জুলাই ২০২৪ | ২৭জন দেখেছেন

Image



নিজস্ব প্রতিবেদক


সরকারি চাকরিতে কোটার যৌক্তিক সংস্কারের এক দফা দাবিতে গণপদযাত্রা কর্মসূচি শুরু করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। 



রোববার (১৪ জুলাই) বেলা পৌনে ১১টার সময় ক্যাম্পাস থেকে সহস্রাধিক শিক্ষার্থী বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে মিছিল নিয়ে বঙ্গভবন অভিমুখে যাত্রা শুরু করে।



কোটা সংস্কার আন্দোলনের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ক মেহেরুন্নেসা হিমু বলেন, আমাদের এ আন্দোলন কোনও রাজনৈতিক আন্দোলন নয়। আমাদের দাবি- দেশে অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর কোটা ব্যতীত সব ধরনের অযৌক্তিক কোটা বাতিল করে সংসদে আইন প্রণয়ন মাধ্যমে কোটার বিষয়ে একটি স্থায়ী সমাধান করতে হবে।


এর আগে গতকাল সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন আন্দোলনকারীরা। রাজধানীতে তারা গণপদযাত্রা করে রাষ্ট্রপতি বরাবর স্মারকলিপি দেবেন। 


এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, সাত কলেজসহ রাজধানীর উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার্থীরা অংশ নেবেন।


একই সময় আন্দোলনে থাকা সারা দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও গণপদযাত্রা করে নিজ নিজ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে তার মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি বরাবর স্মারকলিপি দেবেন।


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে গতকাল সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ। 



এ সময় তিনি জানান, কোটার যৌক্তিক সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।


আরও খবর



ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেন

প্রকাশিত:সোমবার ১৫ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ১৫ জুলাই ২০২৪ | জন দেখেছেন

Image



চ্যানেল 23 রিপোর্ট:


অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়ে ফাইনালে ওঠেছিল স্পেন। শিরোপা জয়ের লড়াইয়ে সেই ধারা অব্যাহত রেখে শিরোপা নিজেদের করে নিয়েছে স্প্যানিশরা।


 ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে ১২ ইউরোপ সেরার মুকুট নিজেদের করে নিলো স্পেন।



রোববার (১৪ জুলাই) অলিম্পিয়াস্টাডিয়ন বার্লিন স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় মাঠে নামে দু'দল। ম্যাচের ১২ মিনিটে বাম দিক থেকে আক্রমণে ওঠে স্পেন। ডি বক্সের ভেতর থেকে উইলিয়ামসের নেওয়া শট রুখে দেন ইংলিশ ডিফেন্ডার।


এরপরও আধিপত্য বিস্তার করে খেলতে থাকপ স্পেন। অন্যদিকে নিজেদের গুছিয়ে নিয়ে আক্রমণে যায় ইংল্যান্ড। তবে তাদের আক্রমণ আটকে যায় অ্যাটাকিং থার্ডে। শেষ পর্যন্ত গোলশূন্য সমতায় থেকে বিরতিতে যায় দু'দল।


বিরতি থেকে ফিরেই গোলের দেখা স্পেন। ম্যাচের ৪৭ মিনিটে ডেড লক ভাঙ্গেন উইলিয়ামস। তার গোলে ম্যাচে লিড নেয় স্প্যানিশরা। পিছিয়ে পড়ে গোল শোধে মরিয়া হয়ে খেলতে থাকে ইংল্যান্ড। একের পর এক আক্রমণ করতে থাকে তারা।



ম্যাচের ৭৩ মিনিটে সমতায় ফেরে ইংল্যান্ড। ডি বক্সের বাইরে থেকে জোড়ালো শটে বল জালে জড়ান বদলি নামা পালমার। তার গোলে ম্যাচে ফিরে ইংল্যান্ড। 


এরপর ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ের দিকে যাচ্ছিলো তখন আবারও গোলেট দেখা পায় স্পেন। চমৎকার ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়ান মাইকেল ওয়ারজাবাল। তার গোলে ফের লিড পায় স্পেন। 


এরপর আক্রমণ করেও গোল করতে ব্যর্থ হয় ইংল্যান্ড। শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের জয়ে শিরোপা উৎসবে মাতে স্পেন।


আরও খবর