Logo
আজঃ রবিবার ২৭ নভেম্বর ২০২২
শিরোনাম

সুনামগঞ্জে মুখ চাপা দিয়ে স্কুল ছাত্রীকে অপরহণ

প্রকাশিত:রবিবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ২৭ নভেম্বর ২০২২ | ১৫৯জন দেখেছেন
Image
রাজু ভুইয়া, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় রাতের আধাঁরে বসতঘরে জোরপূর্বক প্রবেশ করে পিতামাতাকে মারপিঠ করে আহত করে তাদের মেয়ে অপ্রাপ্ত অষ্টম শ্রেণীর এক সংখ্যালঘু শিক্ষার্থীকে অপহরন করে নিয়ে গেছে অটোরিক্রা চালক মো. আশকর আলী ও তার সহযোগিরা। 

ঘটনাটি ঘটেছে গত ২১ সেপ্টেম্বর রাত ১১টায় উপজেলার ৩নং দোয়ারাবাজার ইউনিয়নের পূর্ব নৈনগাঁও গ্রামে। শিক্ষার্থীটি উপজেলার মহিবুর রহমান মানিক উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থী এবং পূর্ব নৈনগাঁও গ্রামের সংখ্যালঘু পরিবারের এক দিনমুজুরের মেয়ে। অপহরণকারী মো. আশকর আলী একজন বখাটে লম্পট ও মাদকাসক্ত একই গ্রামের মৃত আছদ্দর আলীর ছেলে। 

এ ঘটনায় গত ২৩ সেপ্টেম্বর অপহরণের শিকার কিশোরীর পিতা নিজে বাদি হয়ে অপহরনকারী মো. আশকর আলীকে প্রধান আসামী করে আরো ২/৩জনকে অজ্ঞাতনামা ব্যাক্তিকে মামলায় অর্ন্তভূক্ত করে দোয়ারাবাজার থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেছেন। অভিযোগসূত্রে জানা যায়,ঘটনার বেশ কয়েকমাস আগ থেকে ঐ কিশোরীটি প্রতিদিন স্কুলে আসা যাওযার পথে বখাটে ইভটেজার অটোরিকসা চালক আশকর আলী তাকে উত্ত্যক্ত করে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল। মেয়েটি মান সম্মানের ভয়ে মুখ বুঝে এসব অপমান সহ্য করে আসছিল। ঐ বখাটে মেয়েটিকে তার প্রস্তাবে রাজি না হলে তাকে অপহরণ করে নিয়ে যাবে বলেও হুমকি দিয়ে আসছিল। পরে ঘটনাটি কিশোরী তার বাবা মাকে অবহিত করেন।

ঘটনার দিন রাত আনুমানিক ১১টায় অপহরণকারী মো. আশকর আলীর নেতৃত্বে আরো ২/৩তন মিলে পূর্ব নৈনগাঁও কিশোরীর বাড়িতে গিয়ে তার পিতাকে জরুরী কথা আছে বলে দরজা খুলতে বলেন। মেয়েটির পিতা ঘুম থেকে উঠে দরজা খুলে দিলে আশকর আলী গংরা মেয়েটির বসতঘরে প্রবেশ করে বৃদ্ধ পিতামাতাকে বেদড়ক মারপিঠ করে আহত করে ঐ মেয়েটির মুখে চাপা দিয়ে ধরে ঘর থেকে বের করে সিএনজিতে করে অপহরণ করে নিয়ে যায়।

এই ঘটনা কাউকে বলার চেষ্টা করা হলে মেয়ের পরিবারের সবাইকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে ছাতকের দিকে রওয়ানা দিয়ে চলে যায়। তাৎক্ষনিক মেয়ের পিতামাতা চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে এসে বিভিন্নস্থানে খোঁজ খবর নিলেও মেয়েটির কোন সন্ধান মিলেনি।

এ ব্যাপারে কিশোরীর পিতা কান্নাজড়িত কণ্ঠে গণমাধ্যমকর্মীদের জানান,আমি অসহায় একজন সংখ্যালঘু মানুষ বলে ঐ বখাটে অপহরনকারী মো. আশকর আলী আমার মেয়েকে স্কুলে আসা যাওয়ার পথে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল। আমি আমার মেয়েকে উদ্ধার ও অপহরণকারী আশকর আলীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপারের নিকট দাবী জানান।

এ ব্যাপারে দোয়ারাবাজার উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক রিংকু কুমার দেব আক্কেপ করে বলেন,গুটিকয়েকজন লম্পট দ্বারা প্রায় সংখ্যালঘু নারী অপরহণ ও নির্যাতনের মতো ঘটনা ঘটেই চলেছে এটা দুঃখজনক। তিনি নৈনগাঁও গ্রাম থেকে অপহিৃত কিশোরীকে উদ্ধার এবং অপহরণকারী লম্পট অটোরিকসা চালক মো. আশকর আলী গংদের দ্রæত গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তি প্রদানের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পুলিশ সুপারের নিকট জোর দাবী জানান।

এমন একটি ঘটনায় দোষীরা শাস্তি পেলে দ্বিতীয় আরেকটি এ ধরনের জঘন্য ঘটনা ঘটানোর সাহস পাবেনা তারা। 

এ ব্যাপারে দোয়ারাবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) দেব দুলাল ধর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান কিশোরীকে উদ্ধারে এবং অপহরনকারীকে গ্রেপ্তারের পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত আছে।  


আরও খবর



বারহাট্টায় মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে যেতে শীতকালেও নৌকার প্রয়োজন

প্রকাশিত:বুধবার ২৩ নভেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ২৭ নভেম্বর ২০২২ | ৩০জন দেখেছেন
Image

সোহেল খান দূর্জয় : যাদের হাত ধরে এদেশে স্বাধীনতা এসেছে তাদেরই একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা জজ মিয়া খান। শহরে থেকেও যেন তিনি ভাটি অঞ্চলে বসবাস করছেন।যেখানে অগ্রহায়ণ মাসের ফসল উৎপাদন করে ঘরে তোলা হচ্ছে। সফলী জমি গুলো সরিষা চাষ করার উপযোগী হয়ে খড়খড়া হয়ে গেছে, সেই সময় নেত্রকোনা বারহাট্টা উপজেলা আসমা ইউনিয়নের আসমা গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ জজ মিয়া খানের বাড়িতে যেতে নৌকা ব্যবহার করতে হচ্ছে। 

হেমন্তকাল বেদ করে শীত কাল এসে গেছে, এখনও জজ মিয়ার বাড়ির সামনে পানি থইথই করছে। বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ জজ মিয়া খানের  বড় সন্তান নূরুল আমিন খান সাবেক উপজেলা ছাত্রলীগ এর সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমরা এই বছরের বন্যার পর থেকে খুব কষ্টে আছি। অল্প জায়গার জন্য একটি রাস্তা করতে পারছি না।  এক সাইটের জমি আমার আপন খালু শাহজাহান খান এর , আরেক সাইটের জমি আমার চাচা জানু মিয়ার । আমার ভাই পুলিশে চাকরি করে। সে রাস্তার জন্য  বর্তমান বাজার মূল্য থেকে এই জমির দাম বেশি দিতে চেয়েছে। কিন্তু তাতেও কোন লাভ হচ্ছে না। এখন এই নৌকাটিই আমাদের প্রধান বাহন। এটি ছাড়া এক মুহূর্ত চলতে পারি না। আমার বাবা কয়েকদিন যাবৎ খুব অসুস্থ,ঘর থেকে ধরে ধরে বের করতে হয়। 

এই ব্যপারে কোন অভিযোগ হয়েছে কি-না জানতে চাইলে নূরুল আমিন খান বলেন গত মাস দুয়েক আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু কোন ফল হয়নি। 

স্হানীয় সূত্রে জানা যায় জজ মিয়া খানের বাড়িতে যেতে সামনে যে জমিটুকু আছে সেই জমির মালিক তার আত্মীয়। জজ মিয়া সরলসোজা মানুষ। অন্য কোন মুক্তিযোদ্ধা হলে এত দিনে রাস্তা হয়ে যেত।

জমির মালিক শাহজাহান খান বলেন, এই জমির পশ্চিম পাশে একটি রাস্তা রয়েছে। ইচ্ছে করলে  ঐ রাস্তা দিয়ে তারা যাতায়াত করতে পারে। আমার দুই ছেলে। এই জায়গা টি বাসা করার জন্য কিনেছি। রাস্তার জন্য কিছু জমি বিক্রি করলে আমার জায়গা কমে যাবে। 

আসমা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম খান চন্দু বলেন, আমি রাস্তা দিতে চাই। কিন্তু রাস্তার দেওয়ার আগেই বাঁধা পড়লে তো তা সম্ভব হয়ে উঠে না। বিষয়টি আসলেই দুঃখ জনক আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করবো, যেন তাড়াতাড়ি এই রাস্তাটি হয়। 

সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শাহ মোহাঃ আবদুল কাদের বলেন, বারহাট্টা শহরের পাশে মুক্তিযোদ্ধা মোঃ জজ মিয়া খানের বাড়ি। এখানে সারাবছর পানি লেগে থাকে, সে অসুস্থ, তাকে দেখতে গেলে কাঁদা পানির উপর দিয়ে যেতে হয়। এটা আসলেই লজ্জা জনক। আমি চাই দ্রুত যেন এই মুক্তিযোদ্ধার বাড়ি যাওয়ার রাস্তাটি হয়ে যায়। 

বারহাট্টা উপজেলায় নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মাজহারুল ইসলাম বলেন, মুক্তিযোদ্ধা মোঃ জজ মিয়া খানের বাড়িতে যাওয়ার জন্য নিজস্ব কোন ভূমি না থাকায় রাস্তা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। জমির মালিক পক্ষ টাকা দিয়েও জমি বিক্রয় করতে রাজি না হওয়ায় রাস্তাটি হচ্ছে না। এর পরও চেষ্টা করবো যেন রাস্তাটি করা যায়।


আরও খবর



ঠাকুরগাঁওয়ে হরিপুরে নবাগত ইউএনও'র মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত।

প্রকাশিত:সোমবার ০৭ নভেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ২৭ নভেম্বর ২০২২ | ৮৭জন দেখেছেন
Image
মোঃ মজিবর রহমান শেখ: ৭ নভেম্বর সোমবার সকাল ১০.৩০ টায় হরিপুরে নবাগত ইউএনও' এ কে এম শরীফুল হক এর আহবানে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে হরিপুর উপজেলার স্থানীয় জনপ্রতিনিধি,রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, উপজেলা পর্যায়ের সকল কর্মকর্তাবৃন্দ,গণমাধ্যম প্রতিনিধি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান ও এনজিও প্রতিনিধি সহ  আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত সভায়  উপস্থিত ছিলেন হরিপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ,অধ্যাক্ষ  জিয়াউল হাসান মুকুল, সভাপতি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।

নবাগত হরিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একেএম শরীফুল হক, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক  এস এম আলমগীর, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বাবূ নগেন কুমার পাল, মোসলেম উদ্দিন কলেজের অধ্যক্ষ  মোঃ সৈয়দুর রহমান, হরিপুর উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান ও হরিপুর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি  মোঃ আব্দুল কাইয়ুম পুষ্প , ঠাকুরগাঁও জেলা পরিষদ সদস্য  মোঃ আনিসুজ্জামান শান্ত, কৃষি বিষয়ক কর্মকর্তা রুবেল হোসেন, শিক্ষা কর্মকর্তা  মোঃ রায়হানুল হক, হরিপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক  মোঃ মনোয়ারুল ইসলাম রিপন, হরিপুর থানা এস আই মোঃ আবু ঈসা, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানবৃন্দ ও বিজিবির কোম্পানি কমান্ডারগণ।  উক্ত মতবিনিময় সভার আলোচনায় ভূমি সমস্যা, কৃষি বিষয়ে সংকট নিরসন, শিক্ষা ক্ষেত্রে অচলাবস্থা, চোরাচালান, মাদক দ্রব্য , শিশুপার্ক ,সাহিত্য সাংস্কৃতি বিষয়ে সংকট ,কিশোর অপরাধ,বাল্য বিবাহসহ বিবিধ সমস্যা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। আলোচনায় নবাগত নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, "আমি অত্র এলাকার উন্নয়নে সাধ্যানুযায়ী আন্তরিকভাবে কাজ করে যাবো, এলাকার উন্নয়নে স্ব স্ব জায়গা থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা আশা করছি, আপনাদের সবার সার্বিক সহযোগিতা কামনা করি"।

সম্মানিত উপজেলা চেয়ারম্যান মহোদয় হরিপুর উপজেলার গর্বিত সাফল্য আলোকপাত করেন, তবে হরিপুর উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোর অগ্রগতিতে গুরুত্বারোপ করার  আহ্বান জানান। আরো উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা ও বিভিন্ন সুশীল সমাজের বিশিষ্ট ব্যাক্তিবর্গসহ বিভিন্ন স্তরের সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী-কর্মকর্তাবৃন্দ, ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকগণ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

আরও খবর



নেত্রকোনার পাড়া-মহল্লা ও রাস্তার পাশে শীতের পিঠার পসরা দেখতে অসাধারন

প্রকাশিত:সোমবার ২১ নভেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ২৭ নভেম্বর ২০২২ | ৪৩জন দেখেছেন
Image
সোহেল খান দূর্জয় : শীত প্রায় এসেই গেলো। প্রকৃতি অন্তত সেই বার্তাটা জানান দিতে শুরু করেছে। শীত মানেই তো পিঠা-পুলির দিন। পিঠার ঘ্রাণে ম-ম করবে চারদিক। এমন কিছু ভাবনাই তো বাঙালির মানসপটে জায়গা করে নেয়। হালকা শীতল আমেজ নিয়ে আসা বিকেল কিংবা সন্ধ্যায় এখন পিঠা বিক্রির ধুম পড়ে যায়। শীতের আগমনীবার্তা পেয়েই জমে উঠেছে নেত্রকোনার বিভিন্ন রাস্তার পাশে পিঠা বেচাকেনার দোকান গুলো। নেত্রকোনার বিভিন্ন স্থানে ছোট ছোট পিঠার দোকানে পসরা সাজিয়ে বসছে বিক্রেতারা। অনেকে আবার পেশা পরিবর্তন করেও বসছে পিঠা বিক্রির দোকান নিয়ে। বেচাকেনাও বেশ ভালোই।

শীতের আগমনে প্রকৃতিতে এখন হিম হিম গন্ধ। শিশির ভেজা ঘাসের ডগায় মুক্তোর দানা। ভোরের কাঁচা রোদ মৃদু হিমস্পর্শ প্রাণে শিহরণ তুলে বিদায় নিচ্ছে হেমন্তের রাজ কার্তিক। ধীরে ধীরে নেত্রকোনা ঢেকে যাচ্ছে শীতের চাঁদরে। পিঠা ছাড়া ভোজন রসিক বাঙালির শীত যেন পরিপূর্ণ হয় না। শীতে পিঠা খাওয়ার রীতি গ্রাম-বাংলার চিরায়ত সংস্কৃতির অংশ। সেই রীতিতে পিছিয়ে নেই নেত্রকোনাবাসীও।

শীতকে সামনে রেখে নেত্রকোনার পাড়া-মহল্লা ও বিভিন্ন রাস্তার পাশে পিঠার দোকান নিয়ে বসেছেন পিঠা বিক্রেতারা। এছাড়াও নেত্রকোনার মাছুয়া বাজার, রেলক্রসিং বাজর, বুষের বাজার, ইসলামপুর,ও রাজুর বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে হরেক রকমের পিঠার দোকানও বসেছে। তবে মানুষের কাছে চিতই ও ভাপা পিঠার কদর বেশি।

অল্প পুঁজি ও কম পরিশ্রমে ভালো লাভ হওয়ায় অর্ধশতাধিক নারী-পুরুষ পিঠা ব্যবসায় নেমেছেন। দোকানগুলোয় পিঠার পাশাপাশি রয়েছে হরেক রকমের ভর্তাও। এসব পিঠার দোকানে অফিসগামী কিংবা বাড়ি ফেরার পথে অনেককেই দেখা যায় পিঠার স্বাদ নিতে। হাতের নাগালে পছন্দের শীতের পিঠা খেতে পেরে খুশি শহরের মানুষগুলো।

গুড় ও নতুন চালের গুড়ি দিয়ে ভাপা পিঠা বানানো হয়। গরম পানির তাপে (ভাপে) এ পিঠা তৈরি হয় বলে একে ভাপা পিঠা বলা হয়। এ পিঠাকে আরো সুস্বাদু ও মুখরোচক করতে নারকেল ও গুড় ব্যবহার করা হয়। পিঠা তৈরিতে একটি পাতিল ও ঢাকনা ব্যবহার করা হয়। জ্বলন্ত চুলার উপর পাতিলে পানি দিয়ে ঢাকনার মাঝখানটা ছিদ্র করে পাত্রের মুখে দিতে হয়। এ সময় ঢাকনার চারপাশে আটা, চালের গুড়ি ও কাপড় দিয়ে শক্ত করে মুড়ে দেয়া হয়। যাতে করে গরম পানির ভাপ বের হতে না পারে। পরে ছোট একটি গোল পাত্রের মধ্যে চালের গুড়ি, নারকেল ও গুড় মিশিয়ে পাতলা কাপড়ের আবরণে ঢাকনার মুখে রাখা হয়। পানির হালকা গরম তাপে নিমিষেই সিদ্ধ হয়ে যায় নতুন চালের মজাদার ভাপা পিঠা। একটি পিঠা বানাতে ২ থেকে ৩ মিনিট সময় লাগে। পাতিলের মুখ থেকে পিঠা উঠানোর সময় নতুন চাল ও গুড়ের মন মাতানো গন্ধে ভরে যায় চারপাশ। প্রতি পিস পিঠা মানভেদে ৫ থেকে ১০ টাকায় বিক্রি হয়।

নেত্রকোনার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে পিঠা বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, মৌসুমি এই পিঠা গুলোর প্রতি মানুষের আগ্রহের কমতি নেই। মূলতঃ সকাল ও সন্ধ্যায় পিঠা বিক্রি হলেও সন্ধ্যার বাজারে তুলনামূলক পিঠার চাহিদা বেশি থাকে। নেত্রকোনা মাছুয়া বাজার এলাকার পিঠা বিক্রেতা বাদশা মিয়া এই প্রতিনিধিকে বলেন, চিতই, ভাপা, ডিমচিতই  পিঠার চাহিদা সবচেয়ে বেশি। তবে ভাপা আর চিতই পিঠার কদর এবং বিক্রি বেশি। বন্ধুদের সঙ্গে পিঠা খেতে আসা কবির হোসেন এই প্রতিনিধিকে জানান, এই শীত-শীত সন্ধ্যায় চিতই পিঠার সাথে সরিষার ভর্তা, শুটকি ভর্তা, মরিচের ভর্তা, ধনেপাতা ভর্তা, কাচা মরিচের ভর্তা জিভে জল আসার মত স্বাদের কারণেই আমরা প্রতিদিন এখানে আসি পিঠা খেতে।

আরও খবর



বাবার পর ভারতে ছেলেও প্রধান বিচারপতি, শপথ নিলেন ধনঞ্জয় চন্দ্রচূড়

প্রকাশিত:বুধবার ০৯ নভেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ২৬ নভেম্বর ২০২২ | ৮২জন দেখেছেন
Image

ভারতের ৫০তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথগ্রহণ করেছেন বিচারপতি ধনঞ্জয় যশবন্ত চন্দ্রচূড়। বুধবার রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু চন্দ্রচূড়কে শপথবাক্য পাঠ করান। মঙ্গলবারই সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেছেন উদয় উমেশ ললিত। শপথ নেওয়ার পরেই চন্দ্রচূড় বলেছেন, “আমার কাজ কথা বলবে”।

১১ অক্টোবর কেন্দ্রীয় সরকারকে চিঠি লিখে বিচারপতি ললিত তার উত্তরসূরি হিসেবে চন্দ্রচূড়ের নাম প্রস্তাব করেছিলেন। কেন্দ্রীয় আইন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে চন্দ্রচূড়ের নাম রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হলে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মতি জানান। 

চন্দ্রচড়ের বাবা যশবন্ত বিষ্ণু (ওয়াই ভি) চন্দ্রচূড় আট বছর (১৯৭৮-১৯৮৫) ভারতের প্রধান বিচারপতি ছিলেন। এত দীর্ঘ সময় ধরে ভারতে কেউ প্রধান বিচারপতি পদে থাকেননি। পিতা এবং পুত্র দু’জনেই ভারতের প্রধান বিচারপতি হচ্ছেন, এমন নজিরও আগে দেখা যায়নি। ২০১৬ সালে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হিসেবে কাজ শুরু করা চন্দ্রচূড় প্রধান বিচারপতির পদে ২০২৪ সালের ১০ নভেম্বর পর্যন্ত থাকবেন। 

সূত্র : আনন্দবাজার


আরও খবর



ঠাকুরগাঁওয়ে রানীশংকৈলে জিনের পুতুলে’ প্রতারণা

প্রকাশিত:রবিবার ২০ নভেম্বর ২০22 | হালনাগাদ:রবিবার ২৭ নভেম্বর ২০২২ | ১১৬জন দেখেছেন
Image

জয়নুল আবেদীন,ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: নাজমা ওরফে ছুটুনি বুড়ির দাবি, স্বপ্নে স্বর্ণের পুতুলের সন্ধান পেয়েছেন। ঐ পুতুল রয়েছে তাঁর বসতঘরে। এটি তুলতে হলে মসজিদে দিতে হবে ২ লাখ ২০ হাজার টাকা।

এভাবে পুতুল তোলা নিয়ে প্রতারণা করে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে নাজমা টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনাটি ঘটেছে ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈল উপজেলায়। এদিকে বিষয়টি থানায় জানিয়েও কোনো প্রতিকার মিলছে না অভিযোগকারীদের।

অভিযোগ থেকে জানা গেছে, নাজমা রাণীশংকৈল উপজেলার লেহেম্বা ইউনিয়নের কোচল এলাকার আব্দুল বারেকের স্ত্রী। তিনি সম্প্রতি রানীশংকৈল উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের মহারাজাহাট এলাকায় মোজাফফর রহমানের বাড়িতে গিয়ে অবস্থান নেন। সেখানে গিয়ে তাঁর অভাব-অনটনের বিষয় মোজাফ্ফরকে বলেন। একপর্যায়ে তাঁকে ধর্মের ছেলে বানিয়ে আত্মীয়তা তৈরি করেন। ১০ নভেম্বর রাতে মোজাফ্ফর স্ত্রী সহ নাজমার বাড়িতে গেলে নাজমা বলেন, তাঁর ঘরে ‘জিনের পুতুল’সহ বিভিন্ন স্বর্ণালংকার রয়েছে। এগুলো মাটি থেকে তুলতে জিনের নির্দেশনা অনুযায়ী দুই মসজিদে মোট ২ লাখ ২০ হাজার টাকা দান করতে হবে। তাঁর তো এত টাকা নেই। তিনি যদি ধার দিতেন তাহলে দেওয়ার এক ঘণ্টা পরই পুতুল সহ স্বর্ণালংকার তুলে বিক্রি করে তাঁকে টাকাটা ফেরত দেবেন। এরপর মোজাফ্ফর তাঁকে ঐ টাকা ধার দেন।

অভিযোগ থেকে আরও জানা গেছে, টাকা নেওয়ার পর মোজাফ্ফর ও তাঁর স্ত্রীকে বাড়িতে বসতে বলেন।

একপর্যায়ে বাড়িতে কয়েকজন এসে বলেন, ‘আপনারা এত রাতে এখানে কী করেন। এখান থেকে চলে যান, না হলে সমস্যা আছে। অবস্থা বেগতিক দেখে মোজাফ্ফর তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে সেখান থেকে চলে আসেন।

পরে স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিদের পরামর্শে পরদিন নাজমা সহ ৮ জনকে আসামি করে রানীশংকৈল থানায় লিখিত অভিযোগ দেন মোজাফ্ফর।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, নাজমা প্রায় সময়ই মানুষের সঙ্গে স্বপ্নে পাওয়া পুতুলের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা করে আসছেন। তাঁকে সহায়তায় তাঁর বাড়ির আশপাশজুড়ে রয়েছে একটি চক্র। রাণীশংকৈল উপজেলার ধর্মগড় ইউনিয়নের শাহানাবাদ এলাকার রশিদুল ইসলাম জানান, তাঁকেও জিনের পুতুলের কথা বলে ১ লাখ টাকা প্রতারণা করেছেন নাজমা।

একইভাবে রানীশংকৈল উপজেলার রাতোর ইউনিয়নের রাঘবপুর গ্রামের ভম্বল বানিয়া বলেন, জিনের পুতুলের স্বর্ণ তাঁর কাছে বিক্রি করবেন এমন প্রলোভন দেখিয়ে নাজমার বাড়ি কোচলে ডেকে নিয়ে ১ লাখ ১৭ হাজার টাকা নিয়ে নেন। পরে তাঁকে ভয়ভীতি দেখিয়ে সেখান থেকে পাঠিয়ে দেন নাজমার লোকজন।

এদিকে অভিযোগ দেওয়ার ৬ দিন পর গত বৃহস্পতিবার রাণীশংকৈল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদ ইকবাল ও সহকারী পুলিশ সুপার (রাণীশংকৈল সার্কেল) কামরুল হাসান জানান, ঘটনাস্থল তাঁদের এলাকায় নয়, তা ছাড়া এ ঘটনার কোনো সাক্ষী-প্রমাণ নেই। এ কারণে তাঁরা মামলাটি নিতে পারছেন না।


আরও খবর