Logo
আজঃ রবিবার ২৭ নভেম্বর ২০২২
শিরোনাম

ঠাকুরগাঁওয়ে হরিপুরে নবাগত ইউএনও'র মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত।

প্রকাশিত:সোমবার ০৭ নভেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ২৭ নভেম্বর ২০২২ | ৮৯জন দেখেছেন
Image
মোঃ মজিবর রহমান শেখ: ৭ নভেম্বর সোমবার সকাল ১০.৩০ টায় হরিপুরে নবাগত ইউএনও' এ কে এম শরীফুল হক এর আহবানে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে হরিপুর উপজেলার স্থানীয় জনপ্রতিনিধি,রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, উপজেলা পর্যায়ের সকল কর্মকর্তাবৃন্দ,গণমাধ্যম প্রতিনিধি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান ও এনজিও প্রতিনিধি সহ  আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত সভায়  উপস্থিত ছিলেন হরিপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ,অধ্যাক্ষ  জিয়াউল হাসান মুকুল, সভাপতি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।

নবাগত হরিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একেএম শরীফুল হক, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক  এস এম আলমগীর, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বাবূ নগেন কুমার পাল, মোসলেম উদ্দিন কলেজের অধ্যক্ষ  মোঃ সৈয়দুর রহমান, হরিপুর উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান ও হরিপুর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি  মোঃ আব্দুল কাইয়ুম পুষ্প , ঠাকুরগাঁও জেলা পরিষদ সদস্য  মোঃ আনিসুজ্জামান শান্ত, কৃষি বিষয়ক কর্মকর্তা রুবেল হোসেন, শিক্ষা কর্মকর্তা  মোঃ রায়হানুল হক, হরিপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক  মোঃ মনোয়ারুল ইসলাম রিপন, হরিপুর থানা এস আই মোঃ আবু ঈসা, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানবৃন্দ ও বিজিবির কোম্পানি কমান্ডারগণ।  উক্ত মতবিনিময় সভার আলোচনায় ভূমি সমস্যা, কৃষি বিষয়ে সংকট নিরসন, শিক্ষা ক্ষেত্রে অচলাবস্থা, চোরাচালান, মাদক দ্রব্য , শিশুপার্ক ,সাহিত্য সাংস্কৃতি বিষয়ে সংকট ,কিশোর অপরাধ,বাল্য বিবাহসহ বিবিধ সমস্যা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। আলোচনায় নবাগত নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, "আমি অত্র এলাকার উন্নয়নে সাধ্যানুযায়ী আন্তরিকভাবে কাজ করে যাবো, এলাকার উন্নয়নে স্ব স্ব জায়গা থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা আশা করছি, আপনাদের সবার সার্বিক সহযোগিতা কামনা করি"।

সম্মানিত উপজেলা চেয়ারম্যান মহোদয় হরিপুর উপজেলার গর্বিত সাফল্য আলোকপাত করেন, তবে হরিপুর উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোর অগ্রগতিতে গুরুত্বারোপ করার  আহ্বান জানান। আরো উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা ও বিভিন্ন সুশীল সমাজের বিশিষ্ট ব্যাক্তিবর্গসহ বিভিন্ন স্তরের সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী-কর্মকর্তাবৃন্দ, ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকগণ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

আরও খবর



নেত্রকোনার বারহাট্টায় আমন ধানের নমুনা শস্য কর্তন

প্রকাশিত:সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ২৬ নভেম্বর ২০২২ | ৬৭জন দেখেছেন
Image
সোহেল খান দূর্জয় : নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলায় আমন ধানের নমুনা শস্য কর্তন করা হয়েছে।  সোমবার (১৪ নভেম্বর) সকালে নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার ইউনিয়নে নমুনা শস্য কর্তন করা হয়।

উপজেলা কৃষি অফিসের তত্ত্বাবধানে বারহাট্টা সদর ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর গ্রামের শফিকুল ইসলামের আড়াই বিঘা জমিতে ব্রিধান ৭৫ জাতের ধান চাষ করেন। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ নিয়মিতভাবে তদারকি ও পরামর্শ দিয়ে কৃষককে সহযোগিতা করেন। স্বল্প সময়ে এই ধান পেকে থাকে। ধানের ফলন কেমন হয়েছে তা দেখার জন্য সোমবার নমুনা ফসল কর্তন করা হয়। এতে দেখা যায় হেক্টর প্রতি ৪.৫৫ মে. টন ধান (শুকনো) ফলেছে। 

নমুনা ফসল কর্তনের সময় উপজেলা উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ রাকিবুল হাসান, উপ-সহকারী কৃষি অফিসার উচ্ছাস পাল সহ আরো অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। 

পাশের কৃষকরা উপস্থিত থেকে তাদের ভিন্ন জাতের ধানের তুলনায় ব্রিধান ৭৫ ভাল ফলন ও অগ্রিম ফসল উঠায় আগামীতে তারাও এই জাতের ধান চাষ করবে বলে জানান। 

উল্লেখ্য জীবনকাল কম হওয়ায় অগ্রিম ফসল কাটার সুবাধে একই জমিতে কৃষক এই জাতের ধান চাষ করবে বলে জানান।

আরও খবর



ঝালকাঠির রাজাপুরে প্রতারণার মাধ্যমে জমি বিক্রি, প্রতিকার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০৮ নভেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ২৭ নভেম্বর ২০২২ | ৭৪জন দেখেছেন
Image

কঞ্জন কান্তি চক্রবর্তী,ঝালকাঠি  প্রতিনিধি:  ঝালকাঠির রাজাপুরে প্রতারণার মাধ্যমে ভুয়া কাগজ তৈরি করে জমি বিক্রি’র প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী জমির প্রকৃত মালিকগন।

মঙ্গলবার সকালে রাজাপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের সদস্য’রা সংবাদ সম্মেলনে শহিদুল ইসলাম বলেন, রাজাপুর ৪৭ নং মৌজার বিভিন্ন দাগে আমাদের ৬৭ শতাংশ সম্পত্তি রয়েছে। এই সম্পত্তির সাড়ে ২৭শতাংশে মালিক ছিলো মৃত আতাহার আলী খাঁনের স্ত্রী মৃত রোকেয়া খাতুন। তিনি তার সম্পত্তির চেয়েও বেশী আনুমানিক ৪০ বছর আগে বিক্রি করেছে।

বর্তমানে আমি সহ আমাদের নিকট আত্মীয় মৃত মোঃ মানিক খাঁন, মোঃ গোল ফুক্কুর খাঁন,রিজিয়া বেগম ,মোঃ আবু কালাম খাঁন দলিল ও ওয়ারিশ মূলে সম্পত্তির বর্তমানে প্রকৃত মালিক।

বর্তমানে তার ছেলে মোঃ ইউনুস খাঁন প্রতারণার মাধ্যমে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে দুই খানা দলিলের (যার নং-২৩৯০,২৩৯১) মাধ্যেমে ১৮.৮৩ শতাংশ সম্পত্তি রাজাপুর উপজেলা সদরের ২ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মোঃ আল আমিন খাঁনে’র কাছে বিক্রি করেছেন। আল আমিন খাঁন উপজেলা সদরের ২ নং ওয়ার্ড জালিয়াপাড়া এলাকার মৃত আলতাফ হোসেন খাঁনের ছেলে।

মোঃ ইউনুস খাঁন যে ১৮.৮৩ শতাংশ সম্পত্তি ভুয়া কাগজ পত্রের মাধ্যমে বিক্রি করেছেন সেই সম্পত্তির কিছু অংশের ওয়ারিশ সুত্রে এবং কিছু অংশরে ত্রুয় সূত্রে বর্তমান মালিক আমরা। আমার বাগান বাড়ীতে (ঐ সম্পত্তিতে) কৃষিকাজে ব্যবহৃতযন্ত্রপাতি,সার ও কিটনাশক রাখার জন্য একটি টিনসেট ঘর ছিলো যে ঘরটি বর্তমানে ইউপি সদস্য আল আমিন খাঁন লোকজন নিযে রাতের আধারে দখলে নেয়। তাতে আমরা বাঁধা দিলে আমাদের প্রাণ নাশের হুকমি দেয়।

অবশেষে নিরুপায় হইয়া আমরা বিজ্ঞ আদালতে মামলা দায়ের করি। বিষয়টি আমলে নিয়ে মহামান্য আদালত ঐ সম্পত্তির উপর নোটিশ জারি করে। কিন্তু আল আমিন খাঁন আদালতের নির্দেশ অমান্য করে অবৈধ ভাবে তার জোরপূর্বক দখলকৃত সম্পত্তিতে লোকজন নিয়ে বসবাস করতেছেন।

ডি.পি ১৮৬৯ নং খতিয়ানে মোট সম্পত্তির পরিমান ৫ শতাংশ যাহার প্রকৃত মালিক, মোঃ গোলফুক্কর খাঁন, মোঃ মনিক খাঁন, মোঃ হারুন হাওলাদার। কিন্তু মোঃ ইউনুস খাঁন আমাদের ডি.পি নম্বর দিয়ে আমাদের সকলের এস.এ ও বি.এস দাগ বসিয়ে টাকার বিনিময়ে ভুয়া বি.এস পর্চা তৈরি করে এবং দাখিলা কেটে সম্পত্তি আল আমিনের কাছে বিক্রি করেন।

ভুয়া কাগজে দিয়ে আমাদের সম্পত্তি যাহাতে তাদের নামে না করে নিতে পারে সে জন্য আপনাদের লেখুনির মাধ্যমে মহামন্য আদালত,বরিশাল জোনাল সেটেলমেন্ট অফিস এবং উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার অফিস কতৃপক্ষ সহ সংশ্লিস্ট কর্তৃপক্ষের সু-দৃস্টি কামনা করছি।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা এবং রাজাপুর প্রেস ক্লাব সভাপতি সহ জেলা ও উপজেলায় কর্মরত বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিক বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


আরও খবর



বাংলাদেশে দুর্ভিক্ষ হবে না : প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত:শুক্রবার ১১ নভেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ২৬ নভেম্বর ২০২২ | ৭২জন দেখেছেন
Image

আওয়ামী লীগের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বিশ্বব্যাপী দুর্ভিক্ষের পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে। বাংলাদেশে ইনশাআল্লাহ কোনো দুর্ভিক্ষ হবে না। তার জন্য আমাদের এখন থেকে প্রস্তুতি নিতে হবে।’

যুবলীগের ৫০ বছর পূর্তি ও সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মহাসমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনীতি এখনও যথেষ্ট শক্তিশালী। যারা বলেছিল বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কা হবে তাদের মুখে ছাই পড়েছে। সেটা হয়নি, ইনশাআল্লাহ হবেও না।’

কিন্তু আমাদের কাজ করতে হবে।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ২০০৯ সালে যখন সরকার গঠন করি। এই ১৪ বছরে আজকের বাংলাদেশ বদলে যাওয়া বাংলাদেশ, উন্নত বাংলাদেশ। এই ‌বাংলাদেশকে এখন আর আন্তর্জাতিকভাবেও কেউ অবহেলার চোখে দেখে না।’ 

‘আজকে রিজার্ভ নিয়ে কথা বলে, ৯৬ সালে আমি যখন ক্ষমতা গ্রহণ করলাম। ঠিক তার আগে বিএনপি ক্ষমতায় ছিল। রিজার্ভ ছিল ২.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। সেখানে আমরা করোনাকালিন সময়ে ৪৮ বিলিয়ন পর্যন্ত উঠিয়েছি। আজকে আমাদের কাজে লাগছে কারণ আমরা করোনার টিকা দিয়েছি।’

 ‘আমাদের বাইরে থেকে সমস্ত খাবার, তেল আনতে হচ্ছে। তার ওপর দুইটা বছর আমাদের কোনো ক্যাপিটালমেশিনাইজ আসেনি। দুই বছর পর যখন সারা বিশ্ব উন্মুক্ত হয়েছে তখন ক্যাপিটালমেশিনাইজ আসছে। আমাদের রিজার্ভতো ব্যবহার করতেই হবে। তার মধ্যে ৮ বিলিয়ন আমরা আলাদা ভাবে বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করছি। কারণ, শুধু রিজার্ভ জমিয়ে রাখলেতো হবে না। সেটাকে আমাদের কাজে লাগাতে হবে,’- বলেন প্রধানমন্ত্রী 


আরও খবর

এক দিনের সফরে যশোরে প্রধানমন্ত্রী

বৃহস্পতিবার ২৪ নভেম্বর ২০২২




হরিপুরে জমি নিয়ে বিরোধে কুলসুম নামে একজন মর্মান্তিকভাবে জখম

প্রকাশিত:বুধবার ০৯ নভেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ২৭ নভেম্বর ২০২২ | ১৩১জন দেখেছেন
Image

জয়নাল আবেদিন: হরিপুরে জমি নিয়ে বিরোধে কুলসুম নামে একজনকে হাসুয়া এবং কোদাল দিয়ে গলায় এবং কানে আঘাত করে মর্মান্তিকভাবে জখম করেছে দুর্বৃত্তরা । গলা এবং কানে তাতে কিছু অংশ কেটে  গিয়ে প্রচুর রক্তক্ষরন হয়ে হরিপুর হাসপাতালে ভর্তি হয়।

তাদের বাড়ি হরিপুর উপজেলার ১নং গেদুরা ইউনিয়নের পঁচাঘুড়িয়া গ্রামের শেখার মোরে।

জানা গেছে দুর্বৃত্ত সলিম,সাহেদ গোলজান দেশিয় অস্থ নিয়ে কুলসুম সহতার পরিবারের লোকজনের উপর আক্রমণ করে এলোপাথারি ভাবে মারপিট করে এবং হাসুয়া দিয়ে কোপ দেয়।পরে স্থানিয় লোকজন এসে তাদের রক্ষা করে।

এই ব্যাপারে হরিপুর থানায় একটি এজহার করা হয় বলে হরিপুর থানার অসি মোঃ তাজুল ইসলাম  বিষয়টি নিশ্চিত  করেন।


আরও খবর



নেত্রকোনার পাড়া-মহল্লা ও রাস্তার পাশে শীতের পিঠার পসরা দেখতে অসাধারন

প্রকাশিত:সোমবার ২১ নভেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ২৭ নভেম্বর ২০২২ | ৪৪জন দেখেছেন
Image
সোহেল খান দূর্জয় : শীত প্রায় এসেই গেলো। প্রকৃতি অন্তত সেই বার্তাটা জানান দিতে শুরু করেছে। শীত মানেই তো পিঠা-পুলির দিন। পিঠার ঘ্রাণে ম-ম করবে চারদিক। এমন কিছু ভাবনাই তো বাঙালির মানসপটে জায়গা করে নেয়। হালকা শীতল আমেজ নিয়ে আসা বিকেল কিংবা সন্ধ্যায় এখন পিঠা বিক্রির ধুম পড়ে যায়। শীতের আগমনীবার্তা পেয়েই জমে উঠেছে নেত্রকোনার বিভিন্ন রাস্তার পাশে পিঠা বেচাকেনার দোকান গুলো। নেত্রকোনার বিভিন্ন স্থানে ছোট ছোট পিঠার দোকানে পসরা সাজিয়ে বসছে বিক্রেতারা। অনেকে আবার পেশা পরিবর্তন করেও বসছে পিঠা বিক্রির দোকান নিয়ে। বেচাকেনাও বেশ ভালোই।

শীতের আগমনে প্রকৃতিতে এখন হিম হিম গন্ধ। শিশির ভেজা ঘাসের ডগায় মুক্তোর দানা। ভোরের কাঁচা রোদ মৃদু হিমস্পর্শ প্রাণে শিহরণ তুলে বিদায় নিচ্ছে হেমন্তের রাজ কার্তিক। ধীরে ধীরে নেত্রকোনা ঢেকে যাচ্ছে শীতের চাঁদরে। পিঠা ছাড়া ভোজন রসিক বাঙালির শীত যেন পরিপূর্ণ হয় না। শীতে পিঠা খাওয়ার রীতি গ্রাম-বাংলার চিরায়ত সংস্কৃতির অংশ। সেই রীতিতে পিছিয়ে নেই নেত্রকোনাবাসীও।

শীতকে সামনে রেখে নেত্রকোনার পাড়া-মহল্লা ও বিভিন্ন রাস্তার পাশে পিঠার দোকান নিয়ে বসেছেন পিঠা বিক্রেতারা। এছাড়াও নেত্রকোনার মাছুয়া বাজার, রেলক্রসিং বাজর, বুষের বাজার, ইসলামপুর,ও রাজুর বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে হরেক রকমের পিঠার দোকানও বসেছে। তবে মানুষের কাছে চিতই ও ভাপা পিঠার কদর বেশি।

অল্প পুঁজি ও কম পরিশ্রমে ভালো লাভ হওয়ায় অর্ধশতাধিক নারী-পুরুষ পিঠা ব্যবসায় নেমেছেন। দোকানগুলোয় পিঠার পাশাপাশি রয়েছে হরেক রকমের ভর্তাও। এসব পিঠার দোকানে অফিসগামী কিংবা বাড়ি ফেরার পথে অনেককেই দেখা যায় পিঠার স্বাদ নিতে। হাতের নাগালে পছন্দের শীতের পিঠা খেতে পেরে খুশি শহরের মানুষগুলো।

গুড় ও নতুন চালের গুড়ি দিয়ে ভাপা পিঠা বানানো হয়। গরম পানির তাপে (ভাপে) এ পিঠা তৈরি হয় বলে একে ভাপা পিঠা বলা হয়। এ পিঠাকে আরো সুস্বাদু ও মুখরোচক করতে নারকেল ও গুড় ব্যবহার করা হয়। পিঠা তৈরিতে একটি পাতিল ও ঢাকনা ব্যবহার করা হয়। জ্বলন্ত চুলার উপর পাতিলে পানি দিয়ে ঢাকনার মাঝখানটা ছিদ্র করে পাত্রের মুখে দিতে হয়। এ সময় ঢাকনার চারপাশে আটা, চালের গুড়ি ও কাপড় দিয়ে শক্ত করে মুড়ে দেয়া হয়। যাতে করে গরম পানির ভাপ বের হতে না পারে। পরে ছোট একটি গোল পাত্রের মধ্যে চালের গুড়ি, নারকেল ও গুড় মিশিয়ে পাতলা কাপড়ের আবরণে ঢাকনার মুখে রাখা হয়। পানির হালকা গরম তাপে নিমিষেই সিদ্ধ হয়ে যায় নতুন চালের মজাদার ভাপা পিঠা। একটি পিঠা বানাতে ২ থেকে ৩ মিনিট সময় লাগে। পাতিলের মুখ থেকে পিঠা উঠানোর সময় নতুন চাল ও গুড়ের মন মাতানো গন্ধে ভরে যায় চারপাশ। প্রতি পিস পিঠা মানভেদে ৫ থেকে ১০ টাকায় বিক্রি হয়।

নেত্রকোনার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে পিঠা বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, মৌসুমি এই পিঠা গুলোর প্রতি মানুষের আগ্রহের কমতি নেই। মূলতঃ সকাল ও সন্ধ্যায় পিঠা বিক্রি হলেও সন্ধ্যার বাজারে তুলনামূলক পিঠার চাহিদা বেশি থাকে। নেত্রকোনা মাছুয়া বাজার এলাকার পিঠা বিক্রেতা বাদশা মিয়া এই প্রতিনিধিকে বলেন, চিতই, ভাপা, ডিমচিতই  পিঠার চাহিদা সবচেয়ে বেশি। তবে ভাপা আর চিতই পিঠার কদর এবং বিক্রি বেশি। বন্ধুদের সঙ্গে পিঠা খেতে আসা কবির হোসেন এই প্রতিনিধিকে জানান, এই শীত-শীত সন্ধ্যায় চিতই পিঠার সাথে সরিষার ভর্তা, শুটকি ভর্তা, মরিচের ভর্তা, ধনেপাতা ভর্তা, কাচা মরিচের ভর্তা জিভে জল আসার মত স্বাদের কারণেই আমরা প্রতিদিন এখানে আসি পিঠা খেতে।

আরও খবর