Logo
আজঃ রবিবার ২৭ নভেম্বর ২০২২
শিরোনাম

আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিবেদিতপ্রাণরাই মুমিন

প্রকাশিত:সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ২৭ নভেম্বর ২০২২ | ৭৩জন দেখেছেন
Image

আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনকে যারা নিজেদের কর্তব্য বলে ভাবেন তারাই মুমিন। তাকেই মুমিন বলে যে ব্যক্তি মহান আল্লাহর একাত্মবাদ ও রসুল (সা.)-এর রিসালাত পূর্ণ আন্তরিকতার সঙ্গে বিশ্বাস করে এবং তাঁর প্রতিটি হুকুম-আহকাম মেনে চলে। 

মহান আল্লাহ, তাঁর প্রেরিত সব নবী-রসুল, ফেরেশতা, আসমানি কিতাব, পরকাল ও তাকদিরের ওপর  বিশ্বাস স্থাপন করে আর ইমান গ্রহণের পর যে ব্যক্তি ইমান থেকে বিন্দুমাত্র বিচ্যুত হননি তিনিই প্রকৃত মুমিন। আল কোরআন ও হাদিসে মুমিনের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য সুনির্দিষ্টভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। 

কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘ওইসব মুমিনই সফলকাম হয়েছে যারা নিজেদের নামাজে বিনয়-নম্র, যারা অনর্থক কথাবার্তায় নির্লিপ্ত ও বিতৃষ্ণ, যারা জাকাতদানে তৎপর, যারা নিজেদের যৌনাঙ্গ সংযত রাখে, তবে তাদের স্ত্রী ও মালিকানাভুক্ত দাসীদের ক্ষেত্রে সংযত না রাখলে তারা তিরস্কৃত হবে না, তারপর কেউ এদের ছাড়া অন্যকে কামনা করলে তারা সীমা লঙ্ঘনকারী হবে এবং যারা আমানত ও অঙ্গীকার সম্পর্কে হুঁশিয়ার থাকে এবং যারা তাদের নামাজসমূহের হেফাজত করে তারাই উত্তরাধিকার লাভ করবে, তারা ছায়াময় সুশীতল উদ্যানের উত্তরাধিকার লাভ করবে, তারা তাতে চিরকাল থাকবে।’ সুরা মুমিনুন আয়াত ১-১১।

কোরআন মাজিদে ইরশাদ হয়েছে, ‘প্রকৃত ইমানদার তো তারাই আল্লাহর জিকির হলে যাদের অন্তর কেঁপে ওঠে। আর আল্লাহর আয়াত যখন তাদের সামনে পড়া হয় তাদের ইমান বেড়ে যায়।’ সুরা আনফাল আয়াত ২। একজন মুমিন আল্লাহর ওপর ইমান আনার পর আর কখনো এ বিষয়ে আস্থার সংকটে ভোগে না। সে পূর্ণভাবে আল্লাহর ওপর আস্থাশীল হয়। 
যেমন আল্লাহতায়ালা নিজেই বলেছেন, ‘মুমিন তারাই যারা আল্লাহ ও তাঁর রসুল (সা.)-এর প্রতি ইমান আনার পর আর সন্দেহে পড়ে না।’ সুরা হুজুরাত আয়াত ১৫। ‘তারা আল্লাহ ছাড়া আর কোনো প্রভুকে ডাকে না।’ সুরা ফুরকান আয়াত ৬৮। 

কোরআনে আল্লাহ মুমিনদের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে বলেন, ‘যারা মুমিন আল্লাহর স্মরণে তাদের অন্তর প্রশান্তি লাভ করে। প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর স্মরণ দ্বারাই অন্তরে প্রশান্তি এসে থাকে। জেনে রেখ, আল্লাহর স্মরণ আসলে তা যার দ্বারা দিল পরম শান্তি ও স্বস্তি লাভ করে।’ সুরা রাদ আয়াত ২৮।

মুমিনরা সত্যনিষ্ঠ হয়। কোনো তথ্য পেলে তারা তা যাচাই করে গ্রহণ করে। কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনরা! যদি কোনো পাপাচারী তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ নিয়ে আসে তবে তোমরা তা পরীক্ষা করে দেখবে, যাতে অজ্ঞতাবশত তোমরা কোনো সম্প্রদায়ের ক্ষতিসাধনে প্রবৃত্ত না হও। এরপর নিজেদের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত না হও।’ সুরা হুজুরাত আয়াত ৬। 

মুমিনদের বৈশিষ্ট্য প্রসঙ্গে রসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা মুমিনদের পারস্পরিক দয়া, ভালোবাসা ও হৃদ্যতা প্রদর্শনের ক্ষেত্রে একটি দেহের মতো দেখতে পাবে। দেহের কোনো অঙ্গ যদি পীড়িত হয়ে পড়ে তাহলে অন্য অঙ্গগুলোও জ্বর, নিদ্রাহীনতাসহ তার ডাকে সাড়া দেয়।’ বুখারি।

আল কোরআনে মুমিন পুরুষ ও নারী সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘আর ইমানদার পুরুষ ও ইমানদার নারী একে অন্যের সহায়ক। তারা সৎ কাজের আদেশ দেয় এবং মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে। নামাজ প্রতিষ্ঠা করে, জাকাত আদায় করে এবং আল্লাহ ও তাঁর রসুলের নির্দেশ অনুযায়ী জীবনযাপন করে। এদের ওপর আল্লাহ দয়া করবেন।’ সুরা তওবা আয়াত ৭১।

মুমিনকে মহব্বত ও দয়ার প্রতীক বলা হয়। আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন, ‘নিশ্চয়ই সৎকর্মশীল মুমিনদের জন্য দয়াময় আল্লাহ তাদের জন্য (মানুষের অন্তরেও) মহব্বত পয়দা করে দেন।’ সুরা মরিয়ম আয়াত ৯৬। 

রসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘মুমিন মহব্বত ও দয়ার প্রতীক। ওই ব্যক্তির মধ্যে কোনো কল্যাণ নেই যে কারও সঙ্গে মহব্বত রাখে না এবং মহব্বতপ্রাপ্ত হয় না।’ মুসনাদে আহমাদ। 
অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, ‘ওই ব্যক্তি তার ইমানকে দৃঢ় করল যে কাউকে ভালোবাসল আল্লাহর জন্য, কাউকে ঘৃণা করল আল্লাহর জন্য। কাউকে কোনো কিছু দিল আল্লাহর জন্য আর কাউকে কোনো কিছু দেওয়া থেকে বিরত থাকল কেবল আল্লাহর জন্য।’ তিরমিজি। 
আল কোরআনে বলা হয়েছে, ‘হে মুমিনরা! তোমরা আল্লাহ, তাঁর রসুল ও তোমাদের ওপর ন্যস্ত আমানতের খিয়ানত কোর না। অথচ তোমরা এর গুরুত্ব খুব ভালো করেই জান।’ সুরা আনফাল আয়াত ২৭। আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুল (সা.) বলেছেন, ‘যদি তোমার মধ্যে চারটি জিনিস থাকে তবে পার্থিব কোনো জিনিস হাতছাড়া হয়ে গেলেও তোমার ক্ষতি হবে না- ১. আমানতের হিফাজত ২. সত্যভাষণ ৩. উত্তম চরিত্র ৪. পবিত্র রিজিক।’ মুসনাদে আহমাদ। 

অন্য হাদিসে বলা হয়েছে, হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি রসুল (সা.) থেকে বর্ণনা করেন, ‘যে ব্যক্তি তোমার কাছে আমানত রেখেছে তার আমানত তাকে ফেরত দাও। যে ব্যক্তি তোমার আমানত আত্মসাৎ করে তুমি তার আমানত আত্মসাৎ কোর না।’ তিরমিজি, আবুদাউদ। 

কোরআন ও হাদিসের নিরিখে মুমিন হবেন আমানতের রক্ষণাবেক্ষণকারী। মুমিন কখনো খিয়ানতকারী হতে পারে না। এটা মুমিনের চরিত্রের বিপরীত কাজ। নিজেদের মুমিন হিসেবে আল্লাহর দরবারে উপস্থাপন করতে হলে এসব বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। আল্লাহ আমাদের মুমিনের বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলি রপ্ত করা এবং মুমিন হিসেবে তাঁর দরবারে হাজির হওয়ার তৌফিক দিন।


আরও খবর

শিরক থেকে দূরে থাকতে হবে

বৃহস্পতিবার ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২২




খেরসনে যুদ্ধাপরাধ করেছে রাশিয়া: জেলেনস্কি

প্রকাশিত:সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ২৬ নভেম্বর ২০২২ | ৬০জন দেখেছেন
Image

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেছেন, রাশিয়ার সেনারা খেরসনে যুদ্ধাপরাধ করেছে। তিনি জানান, রুশ সেনাদের দখলকৃত খেরসনে প্রায় চার শতাধিক যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত হয়েছে। তদন্তকারীদের অনুসন্ধানে এই তথ্য উদঘাটিত হয়েছে। বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইউক্রেনের বুচা, ইজিয়াম ও মারিউপোলে গণকবর পাওয়া গেছে। এই নৃশংসতার জন্য রাশিয়ান সেনাদের দায়ী করেছে ইউক্রেন। 

তবে এখন পর্যন্ত বিবিসি এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি। অভিযোগ অস্বীকার করে মস্কো জানিয়েছে, মস্কোর সেনারা ইচ্ছাকৃতভাবে কোনও সাধারণ নাগরিককে হত্যা করেনি।

খেরসন স্বাধীন হয়ে গেলেও ইউক্রেন কর্তৃপক্ষ শহরটিতে কারফিউ জারি করেছেন। খেরসনে যাওয়া আসা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এক ভিডিও বার্তায় জেলেনস্কি জানান, রুশ সেনারা দেশের যেসব অঞ্চলে প্রবেশ করেছে সেখানেই নৃশংসতা করেছে। তারা খেরসনেও এই একই কাজ করে গেছে। তারা অবশ্যই এসব হত্যাকাণ্ডের বিচার করবেন।

ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেন আগ্রাসনের পর খেরসনই একমাত্র অঞ্চল যা দীর্ঘদিন ধরে রুশ সেনাদের দখলে ছিলো। গত সেপ্টেম্বরে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন ক্রেমলিনের একটি অনুষ্ঠানে খেরসনসহ আরও তিনটি অঞ্চলকে রাশিয়ার ভূখণ্ড বলে দাবি করেন। কিন্তু শুক্রবার (১১ নভেম্বর) খেরসনকে ইউক্রেন সেনারা স্বাধীন করেছেন।

প্রায় ৩০ হাজার রাশিয়ান সেনাকে অপসারণ করার পর খেরসনের অফিসিয়াল কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে অনেকের মনে আশঙ্কা রয়েছে, কিছু সংখ্যক রাশিয়ান সেনা এখনো ছদ্মবেশে ইউক্রেনে লুকিয়ে থাকতে পারে।

এ বিষয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট জানান, রাশিয়ার সেনাদের আটক করা হয়েছে। তবে যারা এসব নৃশংসতার পেছনে আছেন তাদের শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। ইউক্রেনের সেনারা ইন্টারনেট ও টিভি সংযোগ করার জন্য কাজ করছেন। যতদ্রুত সম্ভব পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে।



আরও খবর



শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সোলার প্যানেল স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে : শিক্ষামন্ত্রী

প্রকাশিত:বুধবার ০৯ নভেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ২৭ নভেম্বর ২০২২ | ৬৩জন দেখেছেন
Image

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সোলার প্যানেল স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে জীবাশ্ম জ্বালানির উপর নির্ভরশীলতাসহ পরিবেশ দূষণ কমবে। 

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি (বুয়েট) এবং জেনেক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচারের মধ্যে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

বুয়েট মিলনায়তনে বুয়েটের উপাচার্য সত্য প্রসাদ মজুমদার এবং জেনেক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং ডিরেক্টর তানজিদুল আলম এই সমঝোতা চুক্তি সই করেন। এই সময় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।  

চুক্তি অনুযায়ী বুয়েটের ২৪টি বিল্ডিংয়ের ৩ লাখ স্কয়ার ফিট ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপন করবে জেনেক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার। এই প্যানেলগুলো থেকে বছরে ৪ হাজার ৩৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। এই বিদ্যুৎ ন্যাশনাল গ্রীডে সরবরাহ করা হবে। বুয়েট বিদ্যুৎ পাবে সাশ্রয়ী রেটে। এতে বুয়েটের বছরে ৬০ লাখ টাকা সাশ্রয় হবে।


আরও খবর

এসএসসির প্রথম দিনের পরীক্ষা শেষ হলো

বৃহস্পতিবার ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২২




নেত্রকোনার কলমাকান্দা সীমান্তে বেড়েছে চোরাচালান, আসছে গরু,সুপারী ও মাদকদ্রব্য

প্রকাশিত:সোমবার ০৭ নভেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ২৬ নভেম্বর ২০২২ | ১৩৭জন দেখেছেন
Image

নেত্রকোনা প্রতিনিধিঃ দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আবারো বাড়ছে নেত্রকোনার কলমাকান্দা ও দুর্গাপুর সীমান্তে গরু,সুপারী,সহ মাদকদ্রব্যের চোরাচালান। সক্রিয় হয়ে ওঠেছে সীমান্তের চোরাচালানকারীরা। ভারত থেকে দুই উপজেলার বিভিন্ন পাহাড়ের পাশ কাটিয়ে চোরাকারবারীরা তাদের কাজ করে প্রশাসনের নাকের ডগায়, পাঁচ গাঁও,লেংগুড়া,খারনৈ,ও দুর্গাপুর উপজেলার ভবানীপুর,বারমারী,ও বিজয়পুর এলাকার সীমান্ত দিয়ে বাড়ছে গরু ও মাদকদ্রব্য পাচার। এতে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন এসব এলাকায় বসবাসকারী স্থানীয় বাসিন্দারা।

সোমবার (৭ নভেম্বর) সরেজমিন গেলে স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে ওঠে আসে এমন তথ্য।

বিশেষ সূত্রে জানা যায়, কলমাকান্দা ও দুর্গাপুর উপজেলার সীমান্তঘেষাঁ গ্রামগুলোর পাশে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের সীমানা। এখানে সীমানা পিলারের জিরো পয়েন্টে ভারতের কাটাতারের বেড়ার নিচে বিভিন্ন স্থানে রয়েছে গোলাকৃতির কালভার্টের ফাঁক। যেখানে কাঁটাতারের বেড়া শেষ সেখানে খোলা অংশ। কোথাও নদী বা নদীর ওপর ব্রিজ। এসব কালভার্ট, খাল আর ব্রিজের ফাঁকা স্থান ব্যবহার করে চোরাকারবারিরা। বিএসএফ ও বিজিবির চোখ ফাঁকি দিয়ে এসব পথ দিয়ে চোরাকারবারীরা আনছে গরু ও মাদক দ্রব্য। 

চোরাই পথে আসা এসব গরু বেচাকেনা হচ্ছে স্থানীয় সীমান্ত এলাকা বিভিন্ন, গ্রামের বাজারে। ওইসব গ্রামের বাসিন্দারা জানান, প্রায় ৩-৪ মাস যাবত ভারতের বিএসএফের চোখ ফাঁকি দিয়ে চোরাই পথে আসছে গরু আর মাদকদ্রব্য। সপ্তাহের শনিবার দিবাগত ভোররাতেই বেশি আসে গরু। এজন্য ওইসব গ্রামে প্রতি শনিবার সন্ধ্যা হতে জড়ো হতে থাকে পাইকাররা। বেচাকেনা হয় সীমান্ত ঘেঁষা ওইসব গ্রামে। এর পর পাহাড়ি পথ বেয়ে নিয়ে আসা হয় কলমাকান্দা ও গুতুরা সহ বিভিন্ন বাজারে। গরুর সঙ্গে আসছে মাদকদ্রব্য। এসব বিক্রি হয় সিক্রেট। তবে মাদক ব্যবসায়ীদেরও আনাগোনা প্রকাশ্যেই।

বিশেষ সূত্রে জানা যায়, এসব চোরাচালানের সঙ্গে সরাসরি জড়িত আওয়ামী লীগ নাম দারি কিছু নেতা তারা আওয়ামী লীগের নাম বিক্রি করে এই ব্যবসা করে আসছেন। 

এদের মধ্যে অনেকেই মাদক ও গরুসহ একাধিকবার পুলিশ ও বিজিবির হাতে আটক হয়েছিল। জেলও খেটেছে। এ ব্যাপারে কথা হয় লেংগুরা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি সিদ্দিকের সাথে। তিনি বলেন, এখানে অনেকেই ভারতের চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত। তাদের জিজ্ঞেস করলে তারা শুধু আমার নাম বলে। আমি এখন আর বর্ডারে যাইনা। এ ব্যাপারে অন্যদের সঙ্গে ফোনে বা সরাসরি যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। 

কলমাকান্দা উপজেলার লেঙ্গুড়া ইউনিয়নের কালোপানি সীমান্ত ছড়া ১১৭১-৭২ পিলার পয়েন্ট দিয়ে প্রতিদিন টনের টন সুপারি বাংলাদেশ থেকে ভারতে প্রচার করছে কিছু অসাধু চোরাচালানকারীরা। রবিবার(৬ নভেম্বর) দুপুরে কালোপানি এলাকায় ঘুরতে গিয়ে এই দৃশ্য চোখে পড়ে। আমার কাছে এই দৃশ্যটা অদ্ভুত মনে হলে আমি পাহাড়ের চূড়ায় বসে বসে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করি। দুর থেকে বুঝা যাচ্ছিল না এত লোক মাথায় বহন করে কি নিয়ে যাচ্ছে, ধান না সুপাড়ী, কাছে গিয়ে কয়েকজন সুপাড়ী বহনকারীকে জিজ্ঞেস করলে তারা জানায়, এগুলো  সুপাড়ী ভারতে যাচ্ছে।

ছড়া থেকে আরেকটু দুরে তাকিয়ে দেখি কয়েকজন সুপাড়ীর মাহাজন লেঙ্গুড়া ইউনিয়নের গৌরিপুর এলাকার সবুজ মিয়া, ফুলবাড়ি এলাকার রফিকুল, শুভ্র বনিক, রমজান, গফুর, ইয়াসিন, জহিরুল, তারা সুপাড়ী বহনকারীদের  নির্দেশ দিচ্ছে তোমরা তাড়াতাড়ি করো বিজিবি এসে পড়বে। সেখান থেকে আনুমানিক এক গজ দুরে সীমান্ত পিলার নং ১১৭২ পয়েন্টে বিজিবি টহল দিচ্ছে। অথচ বিওপির নাকের ডগা দিয়ে প্রতিদিনেই এই চোরাচালান কারবারীরা টনের টন সুপারি এপার থেকে ওপারে প্রচার করছে, বিজিবি যেনো নিরব ভূমিকায়।

আরেক সূত্রে জানা যায়, সীমান্তের চোরাচালানের নিয়ন্ত্রণ করছে লেংগুরা বর্ডারের সবুজ মিয়া। ফলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সীমান্তে প্রবেশ করলেই মোবাইল ফোনে সতর্ক করে দেয়। ফলে নির্ভয়েই ব্যবসা করছেন চোরাচালানকারীরা। বিনিময়ে এ দুজন তাদের কাছ থেকে গরু প্রতি নেয় দুই শ থেকে তিন শ টাকা। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গরু চোরাচালানকারী জানান, হুন্ডির মাধ্যমে ভারতে টাকা পাঠানো হয়। সেখান থেকে নিয়ে আসা হয় গরু ও মাদকদ্রব্য। এতে রয়েছে জীবনের ঝুঁকি। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মামলা মোকদ্দমায় অনেকে এলাকা ছাড়া। তবুও থেমে নেই গরু চোরাচালান আর মাদক ব্যবসা।

লেংগুরা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান জানান, এখানে স্থানীয় কয়েকজন জড়িত আছে। এছাড়া গৌরীপুর,, ফুলবাড়িয়া, থেকে অনেকে আসে। তাদেরকে নিষেধ করলেও তারা মানে না। 

এ ব্যাপারে লেংগুরা বিজিবি ক্যাম্প ইনচার্জের সাথে বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।



আরও খবর



নেত্রকোনার পাড়া-মহল্লা ও রাস্তার পাশে শীতের পিঠার পসরা দেখতে অসাধারন

প্রকাশিত:সোমবার ২১ নভেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ২৭ নভেম্বর ২০২২ | ৪৩জন দেখেছেন
Image
সোহেল খান দূর্জয় : শীত প্রায় এসেই গেলো। প্রকৃতি অন্তত সেই বার্তাটা জানান দিতে শুরু করেছে। শীত মানেই তো পিঠা-পুলির দিন। পিঠার ঘ্রাণে ম-ম করবে চারদিক। এমন কিছু ভাবনাই তো বাঙালির মানসপটে জায়গা করে নেয়। হালকা শীতল আমেজ নিয়ে আসা বিকেল কিংবা সন্ধ্যায় এখন পিঠা বিক্রির ধুম পড়ে যায়। শীতের আগমনীবার্তা পেয়েই জমে উঠেছে নেত্রকোনার বিভিন্ন রাস্তার পাশে পিঠা বেচাকেনার দোকান গুলো। নেত্রকোনার বিভিন্ন স্থানে ছোট ছোট পিঠার দোকানে পসরা সাজিয়ে বসছে বিক্রেতারা। অনেকে আবার পেশা পরিবর্তন করেও বসছে পিঠা বিক্রির দোকান নিয়ে। বেচাকেনাও বেশ ভালোই।

শীতের আগমনে প্রকৃতিতে এখন হিম হিম গন্ধ। শিশির ভেজা ঘাসের ডগায় মুক্তোর দানা। ভোরের কাঁচা রোদ মৃদু হিমস্পর্শ প্রাণে শিহরণ তুলে বিদায় নিচ্ছে হেমন্তের রাজ কার্তিক। ধীরে ধীরে নেত্রকোনা ঢেকে যাচ্ছে শীতের চাঁদরে। পিঠা ছাড়া ভোজন রসিক বাঙালির শীত যেন পরিপূর্ণ হয় না। শীতে পিঠা খাওয়ার রীতি গ্রাম-বাংলার চিরায়ত সংস্কৃতির অংশ। সেই রীতিতে পিছিয়ে নেই নেত্রকোনাবাসীও।

শীতকে সামনে রেখে নেত্রকোনার পাড়া-মহল্লা ও বিভিন্ন রাস্তার পাশে পিঠার দোকান নিয়ে বসেছেন পিঠা বিক্রেতারা। এছাড়াও নেত্রকোনার মাছুয়া বাজার, রেলক্রসিং বাজর, বুষের বাজার, ইসলামপুর,ও রাজুর বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে হরেক রকমের পিঠার দোকানও বসেছে। তবে মানুষের কাছে চিতই ও ভাপা পিঠার কদর বেশি।

অল্প পুঁজি ও কম পরিশ্রমে ভালো লাভ হওয়ায় অর্ধশতাধিক নারী-পুরুষ পিঠা ব্যবসায় নেমেছেন। দোকানগুলোয় পিঠার পাশাপাশি রয়েছে হরেক রকমের ভর্তাও। এসব পিঠার দোকানে অফিসগামী কিংবা বাড়ি ফেরার পথে অনেককেই দেখা যায় পিঠার স্বাদ নিতে। হাতের নাগালে পছন্দের শীতের পিঠা খেতে পেরে খুশি শহরের মানুষগুলো।

গুড় ও নতুন চালের গুড়ি দিয়ে ভাপা পিঠা বানানো হয়। গরম পানির তাপে (ভাপে) এ পিঠা তৈরি হয় বলে একে ভাপা পিঠা বলা হয়। এ পিঠাকে আরো সুস্বাদু ও মুখরোচক করতে নারকেল ও গুড় ব্যবহার করা হয়। পিঠা তৈরিতে একটি পাতিল ও ঢাকনা ব্যবহার করা হয়। জ্বলন্ত চুলার উপর পাতিলে পানি দিয়ে ঢাকনার মাঝখানটা ছিদ্র করে পাত্রের মুখে দিতে হয়। এ সময় ঢাকনার চারপাশে আটা, চালের গুড়ি ও কাপড় দিয়ে শক্ত করে মুড়ে দেয়া হয়। যাতে করে গরম পানির ভাপ বের হতে না পারে। পরে ছোট একটি গোল পাত্রের মধ্যে চালের গুড়ি, নারকেল ও গুড় মিশিয়ে পাতলা কাপড়ের আবরণে ঢাকনার মুখে রাখা হয়। পানির হালকা গরম তাপে নিমিষেই সিদ্ধ হয়ে যায় নতুন চালের মজাদার ভাপা পিঠা। একটি পিঠা বানাতে ২ থেকে ৩ মিনিট সময় লাগে। পাতিলের মুখ থেকে পিঠা উঠানোর সময় নতুন চাল ও গুড়ের মন মাতানো গন্ধে ভরে যায় চারপাশ। প্রতি পিস পিঠা মানভেদে ৫ থেকে ১০ টাকায় বিক্রি হয়।

নেত্রকোনার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে পিঠা বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, মৌসুমি এই পিঠা গুলোর প্রতি মানুষের আগ্রহের কমতি নেই। মূলতঃ সকাল ও সন্ধ্যায় পিঠা বিক্রি হলেও সন্ধ্যার বাজারে তুলনামূলক পিঠার চাহিদা বেশি থাকে। নেত্রকোনা মাছুয়া বাজার এলাকার পিঠা বিক্রেতা বাদশা মিয়া এই প্রতিনিধিকে বলেন, চিতই, ভাপা, ডিমচিতই  পিঠার চাহিদা সবচেয়ে বেশি। তবে ভাপা আর চিতই পিঠার কদর এবং বিক্রি বেশি। বন্ধুদের সঙ্গে পিঠা খেতে আসা কবির হোসেন এই প্রতিনিধিকে জানান, এই শীত-শীত সন্ধ্যায় চিতই পিঠার সাথে সরিষার ভর্তা, শুটকি ভর্তা, মরিচের ভর্তা, ধনেপাতা ভর্তা, কাচা মরিচের ভর্তা জিভে জল আসার মত স্বাদের কারণেই আমরা প্রতিদিন এখানে আসি পিঠা খেতে।

আরও খবর



সুজানগর বোনকোলা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ

অফিস সহকারী নিয়োগে অনিয়মমের সম্ভবনা,অভিযোগ এলাকাবাসীর

প্রকাশিত:শনিবার ২৬ নভেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ২৭ নভেম্বর ২০২২ | ৪৩জন দেখেছেন
Image

হুমায়ুন রাশেদ,পাবনা প্রতিনিধি: পাবনা সুজানগর উপজেলার মানিকহাট ইউনিয়নের বোনকোলা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অফিস সহকারী কাম হিসাব সহকারী বিধি মোতাবেক নিয়োগের কথা থাকলেও উক্ত প্রতিষ্ঠানের গর্ভনিং বডির সভাপতি আব্বাস আলী মোল্লিক ও অধ্যাক্ষ নূরুল ইসলামের যোগ সাজসে শিক্ষক নিয়োগ কমিটির প্রতিনিধি পাবনা সরকারী বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল জব্বার, গভর্নিং বডির সভাপতির ছেলের বউয়ের ১০ লক্ষ টাকার উৎকচের বিনিময়ে নিয়োগ দেওয়ার সম্ভবনা রয়েছে বলে এলাকায় গুনজন উঠেছে।

ইতি মধ্যে এলাবাসীর পক্ষ থেকে স্থানীয় এমপি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার, জেলা মাধ্যমিক অফিসার সহ বিভিন্ন দপ্তরে  লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে বোনকোলা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যাক্ষ নূরুল ইসলামের সাথে অফিস সহকারী কাম হিসাব সহকারী নিয়োগের অনিয়মের  সম্ভাবনার বিষয় জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন ইতি মধ্যে আমরা সকল নিয়ম মেনে নিয়োগ প্রক্রিয়ার কাজ শেষ করছি, দুই জন বাছাইতে আউট হয়েছে।

এদিকে শিক্ষক নিয়োগ কমিটির প্রতিনিধি পাবনা সরকারী বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল জব্বার (ভারপ্রাপ্ত জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার) বলেন তারা পাবনায় আসছিলো আমার সাথে তাদের কথা হয়েছে। কোন টাকার বিষয়ে বা লেন দেন হয়নি এগুলো মিথ্যা কথা। তবে নিয়ম মেনে যোগ্য প্রার্থিকে নিয়োগ দেয়া হবে। তবে স্থানীয় বিষয়ে একটু পক্ষ বি পক্ষ থাকতে পারে।

এ বিষয়ে সুজানগর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ সাইফুল ইসলাম ও সুজানরগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ তরিকুল ইসলামের সাথে মুঠো ফোনে বোনকোলা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অফিস সহকারী নিয়োগে অনিয়মমের সম্ভবনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাদের লিখিত অভিযোগ এখনও  হাতে পাই নাই, তবে আগামী রবিবার ২৭ তারিখে পরিক্ষার মাধ্যমে সঠিক ও যোগ্য প্রার্থিকে নিয়োগ দেওয়া হবে। এখানে অনিয়মের কোন সুয়োগ নেই। লিখিত অভিযোগের বিষয়ে খোঁজ নেয়া হবে।

উল্লেখ্য গত ১৩ই অক্টোববর ২০২২ইং তারিখে  (সিকে-১৮২৯ মোতাবেক ) দৈনিক ইত্তেফাক,ও স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি  দিলে উক্ত পদে নির্ধারীত টাইম, নির্ধারীত তারিখের মধ্যে ১৫ জন  আবেদন করেন, ইতি মধ্যে ২জন প্রার্থি বাছাই পর্বে আউট হয়েছে, ১৩জন প্রার্থি ১টি পদের জন্য আগামি কালকের পরিক্ষায় অংশ গ্রহন করবে, যোগ্য প্রার্থি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ পাবে, এমনটাই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।


আরও খবর